খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৯০ জন ডেঙ্গু রোগী।
আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে, মশক নিধনে নতুন ক্রয়কৃত ওষুধে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও মারা না যাওয়ায় ওই ওষুধ ফেরত পাঠিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (খুসিক)। পাশাপশি নতুন ওষুধ কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২৯০ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২১৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৭৩ জন ভর্তি হয়েছেন। বিভাগে নতুন করে তিনজন মারা গেছেন। এর ফলে চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে।”
শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৩৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন আট হাজার ৮১ জন এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক হাজার ৬০ জন রোগী। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২২৫ জনকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।”
এদিকে কেসিসি থেকে জানা গেছে, গত শনিবার কীটতত্ত্ববিদ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সামনে মশার ওষুধের মান পরীক্ষা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ওই দিন একটি পাত্রে মশার লার্ভার ওপর ওষুধ প্রয়োগ করে বদ্ধ ঘরে ৪৮ ঘণ্টা রাখা হয়। একই সঙ্গে নতুন কেনা ওষুধ পরীক্ষার জন্য দেশের খ্যাতনামা তিনটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে সেই পাত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, ১৫ শতাংশ লার্ভা মারা যায়নি। ফলে মান যাচাইয়ের প্রাথমিক পরীক্ষায় ফেল করেছে মশক নিধনের জন্য আনা ওষুধ। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে নতুন ওষুধে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও মরেনি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ওষুধ ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। পাশাপাশি কীটতত্ত্ববিদদের সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কেসিসি প্রশাসক বলেন, “২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ লার্ভা মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পর ১৫ শতাংশ লার্ভা মরেনি। ওই ওষুধের চালান ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিভাবে আরও ভালো ওষুধ কেনা যায় এ জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”