বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়েজ স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এই কাঠামো পরিবর্তন না করলে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের দ্বিতীয় দিন ‘দ্য অথরস টেবিল’ শীর্ষক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান যেভাবে লেখা, তাতে সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। কেউ চাইলেই পড়ে দেখতে পারেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর অধীন। নিয়োগ রাষ্ট্রপতির নামে হলেও সংবিধানেই তা লেখা আছে। এতে কোন অস্পষ্টতা নেই। এটি না বদলালে স্বাধীনতা আশা করবেন কীভাবে?”
কী কী পরিবর্তন করতে হবে- এ বিষয়ে শ্রীরাধা দত্তের করা প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন না হলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়।”
“বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বিচার বিভাগ এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য মৌলিক অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অনেকাংশে অতিমাত্রায় রয়েছে।”
প্রজাতন্ত্রের প্রশ্নেও এসব বিষয় সমাধান করা জরুরি বলে মনে করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, “আমাদের কেউ কেউ এটা ভুলে যাচ্ছেন বলে মনে হয়। খেলার নিয়ম না বদলালে একই কাজ আবারও করা হবে। ইতোমধ্যে তেমন ইঙ্গিতও আছে। এটাই কষ্টের। এক বছর আগে আমি লাল না হোক, অন্তত হলুদ পতাকা তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম। এ হলো পথ। এক বছর পর এসে আপনারাই বিচার করুন।”
আমলাতন্ত্রকে ‘সংস্কারবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, “আমি এটা বলছি, কারণ ১৫-১৬ মাস, বিশেষ করে নয় মাস আমি তাদের সঙ্গে কাজ করেছি। এই বিশাল গণঅভ্যুত্থান ও পুরনো ব্যবস্থাকে জনগণের পুরোপুরি প্রত্যাখ্যানের পরও তাদের কোন পরিবর্তনে অনিচ্ছাই আমি দেখেছি। সংস্কার ঠেকাতে তারা যত বাধা সৃষ্টি করা সম্ভব, তাই করেছে।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চক্র ভাঙা সম্ভব কি না- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো বড্ড তাড়াহুড়ো হবে। তবে এ বিষয়ে আমি আশাবাদী।”
তবে এর সঙ্গে একটি শর্তও জুড়ে দেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ চক্র ভাঙতে পারে, কিন্তু সব সময় একটি সতর্কতা আছে- রাজনৈতিক শক্তিগুলো কি তা করতে ইচ্ছুক?”