রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও ১৫ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত তিশার বাবা এবং খন্দকার মুশতাকের শ্বশুর মো. সাইফুল ইসলাম।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে, আসামিরা কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় নেতাকর্মী। রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন-বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মো. ইদ্রিসুল আলম (৫৫), আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য মো. মোজাম্মেল হক (৭৫), বাড্ডা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন মামুন (৫০), তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল সিরাজী (৩২) এবং লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক খালেদ মাহমুদ ফয়সাল (৪০)।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে জানান, গুলশানে সংঘটিত ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং পলাতক অপরাপর আসামিদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আসামিদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানা এলাকায় বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও রাষ্ট্রবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বেআইনি সমাবেশ ঘটায়। তারা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।