সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গান পরিবেশন করে দেশজুড়ে আলোচনা ও সংহতি পাওয়া সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল জেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তার পাশাপাশি জেলার আরও তিন জন শিক্ষক এই সম্মাননা পেয়েছেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ স্বাক্ষরিত এক স্মারকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে নির্বাচিতদের তালিকা পাঠানো হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তালিকা থেকে বাছাই করে চারজনকে জেলা পর্যায়ের গুণী শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচিত অন্য তিন শিক্ষক হলেন—সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মত নুরজাহান বেগম এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১নং চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস।
অন্যদিকে, ২২ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল হাসান স্বাক্ষরিত পত্রে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় পর্যায়ের গুণী শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত তিন শিক্ষক হলেন—মৌলভীবাজারের গিয়াসনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিফা নিলুফার, হবিগঞ্জের গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডলি রানী দেব এবং সুনামগঞ্জের নয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল আলম। আগামী ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে তাদের এই সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
গত জুলাইয়ে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের সঙ্গে তার হাঁটাহাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি একটি গোষ্ঠীর ট্রল ও সাইবার হেনস্তার শিকার হন। এমনকি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবিও ওঠে। তবে সেই কঠিন সময়ে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষক সমাজ একইভাবে গান গেয়ে ভিডিও পোস্ট করে বিউটি পালের পাশে দাঁড়ান এবং অভূতপূর্ব সংহতি প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, জেলা পর্যায়ের গুণী শিক্ষক বিউটি রানী পাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং তিনি ২০২৬ সালের সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের সম্মাননাও অর্জন করেছিলেন।