এশিয়া কাপে দুই দলের লড়াইয়ের দশ দিনের মধ্যে আরেকটি ম্যাচেও ভারতের বিপক্ষে একই পরিণতি বরণ করতে হলো বাংলাদেশকে। প্রতিপক্ষকে সামান্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছুড়তে ব্যর্থ হয়ে নিগার সুলতানার দল যথারীতি হারার আগেই হেরে বসলেন। বোলারদের পর ব্যাটসম্যানদের নখদন্তহীন পারফরম্যান্সে তাই শেষ হলো বাংলাদেশের মেয়েদের এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্ন।
জাপানের এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেট ইভেন্টের সেমিফাইনালে আগে ব্যাট করা ভারত ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের পাহাড়ে চড়েছিল। ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে জবাবে বাংলাদেশ হেরেছে ১১৪ রানের ব্যবধানে।
এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে তাও বোলাররা কিছুটা মান রেখেছিলেন বাংলাদেশের। তবে এদিন শুরু থেকেই স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা চড়াও হন ব্যাট হাতে। পাওয়ার প্লেতেই ভারত করে ফেলে ৭২ রান! ১৯ বলে ৩৭ রান করেন স্মৃতি।
তবে বাংলাদেশের বোলারদের তিক্ত এক অভিজ্ঞতা উপহার দেন শেফালি। অভিজ্ঞ এই ওপেনারের সামনে কোনো বোলারই সুবিধা করতে পারেননি। ৯টি ছক্কা ও ৩টি চারের মারে মাত্র ৪৯ বলে অপরাজিত থাকেন ঠিক ১০০ রানে। সাদা বলের ক্রিকেটে এটা তার প্রথম শতক।
নতুন বলে বাংলাদেশের তারকা পেসার মারুফা ছিলেন খরুচে। এক সানজিদা আক্তার বাদে বোলারদের মধ্যে প্রায় সবাই রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি ৮ বা তার বেশি করে।
এশিয়া কাপে ভারতের দেওয়া ১৫০ রানের টার্গেটেই বাংলাদেশ হেরেছিল বিশাল ব্যবধানে। সেখানে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জে শুরুর আগেই যেন হার মেনে নেন ব্যাটসম্যানরা।
অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, ওপেনার দিলারা আক্তার (২৭) ও শারমিন আক্তার (১০) ছাড়া আর প্রথম আটজনের কেউই দুই অঙ্কের ঘরেই যেতে পারেননি। বাজে শটের প্রদর্শনীতে একের পর এক উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেন ব্যাটসম্যানরা। এশিয়ান গেমস দিয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়তে চাওয়া নিগার ৯ বলে করেন মাত্র ৯ রান।
শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে ৮১ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। এই নিয়ে ভারতের বিপক্ষে ২৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ২৩টিতেই হেরেছেন নিগাররা। দলটির বিপক্ষে শেষবার জয় এসেছিল ২০২৩ সালে।