তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘সতর্ক’ করলেন সি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘সতর্ক’ করলেন সি
আমেরিকা ও চীনের প্রেসিডেন্ট। ছবি: রয়টার্স

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং তাইওয়ান ইস্যুকে চীন-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই কথা বলেন।

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সি ট্রাম্পকে তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘সতর্ক’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান যে, ওয়াশিংটনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে তিনি ‘অত্যন্ত গুরুত্ব’ দেন এবং আশা করেন যে উভয় পক্ষই তাদের মতপার্থক্য নিরসনের পথ খুঁজে বের করবে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প এই ফোনালাপকে ‘চমৎকার’ এবং ‘গভীর আলোচনা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্প আগামী এপ্রিলে চীন সফরে যাচ্ছেন। এই সফর নিয়ে তিনি অনেক বেশি ‘আশাবাদী’ বলে জানিয়েছেন।

ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “চীন এবং প্রেসিডেন্ট সি-র সাথে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। এই সম্পর্ক বজায় রাখা যে কতটা জরুরি, তা আমরা দুজনেই উপলব্ধি করি।”

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জানান, তাইওয়ান ছাড়াও তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আমেরিকা থেকে চীনের তেল ও গ্যাস কেনার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তাইওয়ান প্রসঙ্গে সি বলেন, “এই স্বশাসিত দ্বীপটি চীনের ভূখণ্ড এবং বেইজিংকে অবশ্যই তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে হবে।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমেরিকাকে অবশ্যই তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মোকাবিলা করতে হবে।”

গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বিশাল অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল, যার মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার, সেলফ-প্রোপেলড হাউইটজার এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। বেইজিং সে সময় জানিয়েছিল যে, তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করার এই প্রচেষ্টা কেবল তাইওয়ান প্রণালীকে একটি বিপজ্জনক ও সহিংস পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।

গত বছরের শুল্ক যুদ্ধ এবং চিপ ও বিরল খনিজ নিয়ে লড়াইয়ের পর গত কয়েক মাসে দুই দেশের সম্পর্কের ক্রমাগত উন্নতি হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে আমেরিকা তাইওয়ানের পরিবর্তে বেইজিংয়ের সাথেই আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি মেনে চলছে। তবে তা সত্ত্বেও আমেরিকা তাইওয়ানের একটি শক্তিশালী মিত্র এবং বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে রয়ে গেছে।

সম্পর্কিত