বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ এবং পপুলার ক্যাথল্যাবের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘হিল হার্ট হোপ: ক্যাথ ল্যাব ক্রনিকলস- আ ইয়ার অব হিলিং হার্টস এন্ড সেভিং লাইভস’ শীর্ষক এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো গত এক বছরে পপুলার ক্যাথল্যাবের নিরলস সেবা ও সাফল্যের উদযাপন করা। একই সঙ্গে, বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি হৃদরোগ চিকিৎসায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
গত এক বছরে পপুলার ক্যাথল্যাব ৩২০টি প্রাইমারি পিসিআই বা রিং পরানোর মতো জটিল প্রক্রিয়া অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। পপুলার গ্রুপ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন পপুলার গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত হৃদরোগ চিকিৎসায় সরকারের নতুন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “হৃদরোগের কারণে অকালে প্রাণহানি রোধ করতে বর্তমান সরকার ন্যাশনাল অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম (এসিএস) নেটওয়ার্ক গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। এর মাধ্যমে সারাদেশে এ ধরনের কার্ডিয়াক সেন্টারগুলোকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে, যাতে দেশের যেকোনো প্রান্তের মানুষ দ্রুততম সময়ে জরুরি হৃদরোগ সেবা পান।”
শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি কেনা নয়, বরং চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়ন, সঠিক পলিসি সাপোর্ট এবং একটি সুপরিকল্পিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ার মাধ্যমে সরকার হৃদরোগ সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি সবাইকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার কদম হাঁটার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে অতিথিরা হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মতামত ও বক্তব্য তুলে ধরেন।