সম্প্রতি ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার ‘উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায়’ নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল ১৯। সংস্থাটির দাবি, শুধু জুন মাসেই ১০৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন নারী। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১০ শতাংশ বেশি।
গত ২৪ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ জানিয়েছে আর্টিকেল ১৯।
সংস্থাটি বলছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর জানুয়ারির বিক্ষোভ-সংক্রান্ত অভিযোগে ইরানে অন্তত অর্ধ শতাধিক মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এতে ইরানি কর্তৃপক্ষ সংঘাতকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে এবং জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তাছাড়া রাজনৈতিক বিরোধ দমনের হাতিয়ার হিসেবেও মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে আর্টিকেল ১৯।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে কার্যকর হওয়া ১০৯টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে মাত্র সাতটির কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে।
আর্টিকেল ১৯ জানিয়েছে, অন্তত ১২টি ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়নি। তারা আরও জানায়, গত মাসে রাজনৈতিক অভিযোগে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিল। জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় তাদের আটক করা হয়।
আর্টিকেল ১৯ বলছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার বাড়ার পাশাপাশি ইরানে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম, চাপ দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় এবং অন্যায্য বিচারও বেড়েছে।
সংস্থাটি উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতিতে বলেছে, সম্প্রতি ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় ‘গুপ্তচরবৃত্তি ও জায়নবাদী শাসন এবং শত্রু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার শাস্তি কঠোর করার আইনের’ ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী একটি নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন নির্দেশনার ফলে জাতীয় নিরাপত্তার নামে অস্পষ্ট অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তি দেওয়ার সুযোগ বেড়েছে।
এ বছরের শুরুতে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা ও বিক্ষোভ-সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। আর্টিকেল ১৯-এর মতে, এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, অন্যায্য বিচার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি বেড়েছে।
আর্টিকেল ১৯ ইরান সরকারের প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত এবং মতপ্রকাশের কারণে আটক সব ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।