ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) 'গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৬'-এ ৫৫ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ, অবস্থান ৭৯তম। গত বছর এই সূচকে ২৪ তম স্থানে উঠে এসেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার মূল্যায়নকৃত ১৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে।
গতকাল বুধবার ডব্লিউইএফের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বৈশ্বিক লিঙ্গসমতার সূচকে ১৪৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৯তম। পরে ২০২৫ সালের সূচকে বাংলাদেশের ৭৫ ধাপ অগ্রগতি হয়ে ২৪তম স্থানে ওঠে। তবে চলতি বছরে আবার বড় পতন ঘটেছে।
মূলত চারটি মাপকাঠির ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এগুলো হলো—অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষাগত অর্জন, স্বাস্থ্য ও আয়ু, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সার্বিক লিঙ্গ বৈষম্য কমে দাঁড়িয়েছে ৭১.২ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৭৭.৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশে লিঙ্গসমতার সূচক কমেছে ৬.২ শতাংশ পয়েন্ট।
অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ ক্ষেত্রটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ খাতে বৈষম্য দূর হয়েছে ৪১.৯ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ৪৫.৭ শতাংশ।
কাজের ক্ষেত্রে অর্জিত আনুমানিক আয়, শ্রমশক্তিতে নারীদের মোট অংশগ্রহণ এবং উচ্চপদস্থ নেতৃত্বে নারী কর্মী কমে যাওয়ার কারণে এই পতন হয়েছে। এই তিনটি ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১৫, ৫.৭ এবং ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট সমতা কমেছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন খাতে গত বছর বিশ্বের ৩ নম্বরে থাকলেও এবার বাংলাদেশ নেমে গেছে ১২তম স্থানে। এই খাতে অর্জিত সমতার হার ৫০.৯ শতাংশ। বিশেষ করে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সমতার হার পরিমাপের পুরো মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্নে (২.৪ শতাংশ) নেমে এসেছে।
এছাড়াও স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকা খাতে বাংলাদেশের সমতার হার অপরিবর্তিতভাবে ৯৬ শতাংশ রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে রেকর্ড ৯৬.১ শতাংশ সমতা অর্জিত হয়েছে, যা বিগত ২০ বছরের ধারাবাহিক অগ্রগতির চিত্র ধরে রেখেছে। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতাv হার বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষায় নারীদের ভর্তি বৃদ্ধি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সমতা বজায় থাকলেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এখনো নারীদের পিছিয়ে থাকার হার ৭৭.১ শতাংশ।
এদিকে, অঞ্চলগতভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় (সাতটি দেশের মধ্যে) সবার ওপরে রয়েছে বাংলাদেশ। টানা ১২ বছরের মতো দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে দেশটি। অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপ ১১৯তম, নেপাল ১২০তম, ভুটান ১২১তম, শ্রীলঙ্কা ১২৯তম এবং ভারত ১৩১তম স্থানে রয়েছে।
সার্বিকভাবে এবারও শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। এ নিয়ে দেশটি টানা ১৭ বছর ধরে সূচকের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। সূচকে সবার শেষে রয়েছে চাদ (১৪৫তম)। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম লিঙ্গসমতা থাকা দেশ পাকিস্তান। বিশ্বেও দেশটির অবস্থান তৃতীয় সর্বনিম্ন।