সমতাভিত্তিক সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পন্ন মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারলে শোভন কর্মপরিবেশ তৈরি হবে বলে জানান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আজ শুক্রবার সকালে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও এর পদ্ম হলে রুমে বাংলাদেশ ইনিস্টিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ নিয়ে বলেন, “আমাদের প্রাথমিক বিষয় হচ্ছে শিল্পায়ন করা এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আমাদের অভ্যন্তরীন সম্পদ বাড়বে। যার মাধ্যমে আমরা ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে পৌঁছাতে পারবো। আমাদের এটাও দেখতে হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গ্রোথ বৃদ্ধি হয়ছে নারীরা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে অংশগ্রহণের ফলে। তা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। তাই আমাদের উৎপাদনমুখী শিল্পের মাধ্যমে টেকসই শিল্পায়ন করা।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, “এছাড়াও কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের কথা আমাদের ভাবতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসছেন। সুতরাং আমাদের কর্মক্ষেত্রে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে সমতাভিত্তিক সমাজিক ন্যায়বিচার সম্পন্ন মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আমাদের শোভন কর্মপরিবেশ তৈরি হবে।”
এই আলোচনা সভার আরও উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বাংলাদেশের কান্ট্র ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন।
অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক এবং তাদের বিভিন্ন অধিকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উল্লেখ করেন যে, দেশের মোট কর্মরত জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সাথে জড়িত। ফলে এক বিশাল জনগোষ্ঠীর চাকরির স্থায়িত্ব, আইনি সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও ন্যায্য মজুরি এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন যে, বর্তমানে শ্রমিকদের দাবি কেবল বেতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং আট ঘণ্টা কাজের সঠিক বাস্তবায়ন, অতিরিক্ত কাজের ন্যায্য পারিশ্রমিক, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দরকষাকষির অধিকার, সময়মতো মজুরি পরিশোধ এবং সামাজিক মর্যাদাকে তারা তাদের মৌলিক দাবি হিসেবে বিবেচনা করছেন। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি ভবিষ্যতে একটি শ্রমিকবান্ধব, শিল্পবান্ধব, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি সহায়ক এবং ন্যায়ভিত্তিক শ্রমনীতি প্রণয়নের প্রত্কসই শিল্পায়ন করা।”