Advertisement Banner

বিবিসির প্রতিবেদন

যুদ্ধের এক সপ্তাহ পরে কী বলছেন ইরানিরা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
যুদ্ধের এক সপ্তাহ পরে কী বলছেন ইরানিরা
যুদ্ধের কারণে ইরানের ৩২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

এক সপ্তাহে আগে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ অনেক শীর্ষ নেতা ওই হামলায় নিহত হন। এখন ইরানে হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের বাসিন্দা হামিদ (ছদ্মনাম) এক সপ্তাহ আগে যখন খামেনির মৃত্যুর খবর পান, তখন তিনি এক খুব স্বস্তি অনুভব করেছিলেন। তিনি তার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে উদযাপনের জন্য তেহরানে নিজের বাড়ির সামনের রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

পরবর্তী কয়েক দিন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা রাজধানীর বিভিন্ন ভবনে আঘাত হানছিল, তখন এই পরিবারটি বাড়ির ছাদে উঠে বিমান হামলাগুলো দেখছিলেন। প্রতিবার যখনই এই শাসনব্যবস্থার কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হচ্ছিল, তারা উল্লাস প্রকাশ করছিলেন।

হামিদ বিবিসি পার্সিয়ানকে (বিবিসি নিউজের ফারসি ভাষার পরিষেবা) বলেন, “পৃথিবীর আর কোথাও এমন জায়গা খুঁজে দেখুন যেখানে নিজের দেশের ওপর বিদেশি হামলায় সাধারণ মানুষ খুশি হয়। কিন্তু আমরা এখন আশা করছি যে এই শাসনব্যবস্থা শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে। আমরা আনন্দিত।”

ইরানের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দেশের ভবিষ্যতের জন্য এবং পুরো অঞ্চলের জন্য এই যুদ্ধের সপ্তাহটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।

বিবিসি পার্সিয়ান বলছে, বোমাবর্ষণ আর কঠোর ইন্টারনেট বিধিনিষেধের মধ্যে থাকা একটি রাষ্ট্রে ৯ কোটি মানুষের এই বিশাল জাতির মনোভাব পুরোপুরি পরিমাপ করা অসম্ভব।

এক সপ্তাহ পার হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, কিছু মানুষ যখন শাসকের ওপর প্রতিটি হামলায় আনন্দ প্রকাশ করছেন, অন্যেরা তখন ক্রমেই আতঙ্কিত হয়ে উঠছেন। যুদ্ধের উদ্দেশ্য এবং এর শেষ কোথায়, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছেন।

আলী নামে এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, “এই যুদ্ধের লক্ষ্য ইরানি জনগণের জন্য স্বাধীনতা বা গণতন্ত্র বয়ে আনা নয়। এটি মূলত ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অঞ্চলের আরব দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য।”

তেহরানের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ জানান, তিনি চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এমন একটি সমঝোতা হোক যা যুদ্ধ এড়াতে পারত। তিনি ভেবেছিলেন খামেনির মৃত্যুতে তিনি খুশি হবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ‘কিছুই মনে হয়নি’।

মোহাম্মদ জানান, তিনি এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। চারদিকে শাসকগোষ্ঠীর চেকপোস্ট আর আকাশ থেকে আসা বোমাবর্ষণে তিনি এখন ভীত। অন্যান্য ইরানিরা ভয়, উদ্বেগ এবং আশার এক মিশ্র অনুভূতির কথা বলছেন।

এক নারী বলেন, তিনি ও অন্যান্য ইরানিরা বর্তমানে যে জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা বোঝার জন্য কাউকে ইরানে অন্তত ৪০ বছর বাস করতে হবে।

সাঈদ নামে এক ইরানি বলেছেন, “ট্রাম্প সরকার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই মিথ্যা বলছে। ইরান আক্রমণ করার কোনো কারণ তাদের ছিল না। ইসরায়েল চেয়েছিল বলেই তারা এটা করেছে।”

ইসফাহানের সামান (আসল নাম নয়) বিবিসিকে জানান, ইসফাহানের পরিস্থিতি ‘সত্যিই ভয়াবহ’, একটি লক্ষ্যবস্তুর চারপাশের রাস্তায় মানুষের শরীরের বিচ্ছিন্ন অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তিনি নিজেকে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আমি দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করিনি যে আমরা এভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত হয়ে পড়ব।”

তেহরানের ২০ বছর বয়সী এক তরুণী, যিনি সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করার খবরে ‘অত্যন্ত আনন্দিত’ হয়েছিলেন, ছয় দিন পর তিনি বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেন, “আমি এখন খুশিও নই, আবার দুঃখিতও নই-আমি কেবল ক্লান্ত।”

সম্পর্কিত