Advertisement Banner

বাংলাদেশকে বিতর্কিত করতে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: তারেক রহমান

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
বাংলাদেশকে বিতর্কিত করতে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: তারেক রহমান
মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

আজ শুক্রবার মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার পর নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত করা এবং বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।”

এ প্রেক্ষাপটে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান সতর্ক থাকার জন্য।

তারেক রহমান বলেন, “যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “কয়েক বছর আগেও একই স্থানে সমাবেশ করতে গিয়ে নেতাকর্মীদের আতঙ্কে থাকতে হতো। বিএনপি, শ্রমিক দল, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলো যখনই সমাবেশ করেছে, তখনই হামলার আশঙ্কা থাকত।”

তিনি বলেন, “মাত্র দুই-তিন বছর আগের ঘটনা। তখন আমরা জানতাম না কখন স্বৈরাচারী বাহিনী হামলা করবে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে।”

আওয়ামী লীগ আমলে ‘জনগণের অধিকার হরণের’ কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “ওই সময়ে শুধু শ্রমিক নয়, ছাত্র, শিক্ষক, নারীসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষ তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। দেশের অর্থনীতি লুটপাটের মাধ্যমে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল, শিল্পকারখানা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় এবং আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়।”

গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে আসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে যখনই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়েছে, তখনই শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে, অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে এবং শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে একসময় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।

‘দুইজন করে সদস্য’ যুক্ত করার আহ্বান

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “যদি সত্যিই জিয়াউর রহমানকে বাঁচিয়ে রাখতে চান, যদি খালেদা জিয়াকে সম্মান করতে চান, যদি তারেক রহমানকে সফল দেখতে চান—তাহলে আগামী এক বছরে অন্তত দুইজন করে নতুন কর্মী তৈরি করুন। সমাবেশে যদি তিন লাখ মানুষ উপস্থিত থাকে এবং প্রত্যেকে দুইজন করে সদস্য যুক্ত করেন, তাহলে আগামী বছর এই সংখ্যা নয় লাখে পৌঁছাবে।”

বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ

তারেক রহমান জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কারখানাগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

সম্পর্কিত