ads

সারাদিন ব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রাখি, রাতে ফিরে ডাস্টবিনে ফেলি: প্রধানমন্ত্রী

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সারাদিন ব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রাখি, রাতে ফিরে ডাস্টবিনে ফেলি: প্রধানমন্ত্রী
সোমবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল-বাটাজোর খালের তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ইউএনবি

সহজ কিছু অভ্যাস গড়ে তুলে বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় ব্যক্তিগত অভ্যাসের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেন, “সারাদিন ব্যবহৃত টিস্যু আমি পকেটে রাখি। রাতে বাড়ি ফিরে সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলি।”

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ সোমবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল-বাটাজোর খালের তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি নিজেদের ঘর এবং নিজেদের দেশ পরিষ্কার না রাখি, তাহলে বাইরের কেউ এসে আমাদের জন্য তা পরিষ্কার করে দেবে না। আমি দেশের সব মানুষের কাছে অনুরোধ করছি–আমরা যেন ইচ্ছামতো যত্রতত্র ময়লা না ফেলি। খালি পানির বোতল হোক, প্লাস্টিকের প্যাকেট হোক বা ব্যবহৃত কোনো জিনিস–সবকিছু নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পানি খাওয়া শেষ হলে খালি বোতলটি রাস্তায় ফেলবেন না। কোনো প্লাস্টিকের ব্যাগ বা প্যাকেটের আর প্রয়োজন না থাকলে সেটি যেখানে-সেখানে ফেলে রাখবেন না। এসব অভ্যাস পরিবেশের ক্ষতি করে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের ও আমাদের সন্তানদেরই এর ভোগান্তি পোহাতে হয়।”

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকেও একইভাবে সুন্দর রাখতে সব নাগরিকের নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্যক্তিগত দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি নিজের অভ্যাসের কথাও জানান। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই ব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রেখে দেওয়ার অভ্যাস করেছেন এবং ডাস্টবিন পেলে সেখানে ফেলেন।

তিনি বলেন, “সারাদিন ব্যবহৃত টিস্যু আমি পকেটে রাখি। রাতে বাড়ি ফিরে সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলি। ধীরে ধীরে আমি এই অভ্যাস তৈরি করেছি। সবাই এমনটি করতে পারেন।”

কাছের খালে ভাসমান দুটি প্লাস্টিকের বোতল দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, “একজন মানুষ যদি সারাদিন একটি ঘর পরিষ্কার করেন, আর পাঁচ-ছয়জন মানুষ সেটি নোংরা করতে থাকেন, তাহলে কি ঘরটি পরিষ্কার থাকবে? দেশও আমাদের ঘরের মতো। সবাই ময়লা ফেলতে থাকলে কয়েকজনের পক্ষে দেশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়।”

বাজার, সড়কের পাশ ও জনসমাগমস্থলে জমে থাকা আবর্জনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউই নোংরা পরিবেশ দেখতে পছন্দ করেন না। এতে পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, “তাই আসুন, আমরা আমাদের দেশের যত্ন নিই। আমাদের দেশ আমাদেরই দেখাশোনা করতে হবে, কারণ এটি আমাদের সবার ঘর। একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ নির্ভর করে আমাদের সবার সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের ওপর।”

সফরে প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে নারী ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মাঠ মহড়া পরিদর্শন করেন।

সম্পর্কিত