Advertisement Banner

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মতবিরোধ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মতবিরোধ
হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের উদ্দেশ্য অভিন্ন নয় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর তুলসি গ্যাবার্ড। তার মতে, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ইরানের নেতৃত্বকে অকার্যকর করা, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং নৌবাহিনী ধ্বংস করা।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশ্বব্যাপী হুমকির বিষয়ে হাউজ ইন্টেলিজেন্স কমিটির বার্ষিক শুনানিতে গতকাল বৃহস্পতিবার গ্যাবার্ড বলেন, “প্রেসিডেন্ট যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছেন, তা ইসরায়েলি সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর চেয়ে ভিন্ন।"

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, তুলসী আরও বলেন, “অভিযানগুলোর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ইসরায়েল সরকার ইরানের নেতৃত্বকে অকার্যকর করার দিকে মনোনিবেশ করেছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও উৎপাদন সক্ষমতা এবং তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করা।”

ইরানে যৌথ বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার তাদের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, উভয় পক্ষের কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন যে তাদের উদ্দেশ্য এক ছিল না।

সংঘাত যখন প্রায় তিন সপ্তাহের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তখন ইসরায়েল এমন সব হামলা চালিয়েছে যাতে ইরানের ধর্মীয় ও সামরিক নেতারা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সাথে সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রশাসনের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের বিষয়। তবে প্রেসিডেন্টসহ অন্যান্যরা দাবি করেছিলেন যে, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আরেকটি অভিযানে ইরানের অস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যের জন্য পরিচালিত।

বৃহস্পতিবার আড়াই ঘণ্টাব্যাপী শুনানিতে গ্যাবার্ড বলেন, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোথায় রেখেছে, সে বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের গভীর আস্থা রয়েছে। তবে তা ধ্বংস করার মতো সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্য অধিবেশনে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

গত ১৮ মার্চ রাতে দুই দেশের লক্ষ্য যে ভিন্ন তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এদিন ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটন কিছুই জানত না। ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। ট্রাম্প আরও জানান, ইরান যদি কাতারে আর হামলা না চালায়, তবে ইসরায়েল আর ওই গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করবে না।

টেক্সাসের ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি হোয়াকিন কাস্ত্রো প্রশ্ন তোলেন “ট্রাম্পের নিষেধ সত্ত্বেও ইসরায়েল কেন ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে?”

এর জবাবে গ্যাবার্ড জানান, তার কাছে এর কোনো উত্তর নেই।

হাউজে এই দিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন সাক্ষ্য দিলেন গ্যাবার্ড। এর আগে ১৮ মার্চ তিনি, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকরা সিনেটের ইন্টেলিজেন্স প্যানেলেও সাক্ষ্য দেন।

এই উভয় শুনানিতেই ‘২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলাকে যৌক্তিক প্রমাণ করার মতো কোনো আসন্ন হুমকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তৈরি করেছিল কি না’ গ্যাবার্ডকে এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।

ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট ১৭ মার্চ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। তিনি জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসন্ন কোনো হুমকি তৈরি করেনি।

গ্যাবার্ড উভয় শুনানিতেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো আসন্ন হুমকির সম্মুখীন কি না, তা নির্ধারণ করার একক অধিকার কেবল ট্রাম্পের।

সম্পর্কিত