সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ও পেশীশক্তির প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, বাড়ি দখল, চরের খাস জমি দখল, সহিংস হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এ সব ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করে তারা অবিলম্বে এসবের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নাগরিক সমাজের পক্ষে পাঠোনো এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী ও দখলদারিত্বের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে ১৯৭৪ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সেবাদানকারী ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ হামলা ও ভাঙচুর, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় কয়েকশ মানুষের তাণ্ডব ও সম্পত্তি লুটপাট এবং ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ধারীদের চাঁদাবাজির ঘটনায় অসন্তোষ ব্যক্ত করা হয়। একই সাথে পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও ভোলার চর এলাকাগুলোয় ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে খাস জমি দখলের ঘটনায় ক্ষোভ জানানো হয়।
বিবৃতিতে নাগরিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, শাসক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া, পতিত সরকারের সশস্ত্র অনুসারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আইনশৃঙ্খলা উন্নতির দাবি বাস্তবতার সাথে মিলছে না উল্লেখ করে বলা হয়, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে।
এই চরম উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষী ব্যক্তি, বাহিনী ও তাদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, সুলতানা কামাল, খুশী কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, শিরীন পারভিন হক, আবু সাঈদ খান, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, শাহীন আনাম, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সামিনা লুৎফা, ড. সুমাইয়া খায়ের, ড. গীতি আরা নাসরীন, ড. জোবাইদা নাসরীন, ভিজিটিং প্রফেসর ড. স্বপন আদনান, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, ড. নোভা আহমেদ, ড. ফিরদৌস আজিম, লেখক রেহনুমা আহমেদ, সাঈদ ফেরদৌস, সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, ডা. নায়লা খান, মানবাধিকারকর্মী নুর খান, পাভেল পার্থ, ড. ঈশিতা দস্তিদার, মনিন্দ্র কুমার নাথ, রোজিনা বেগম, জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, সালেহ আহমেদ, রেজাউল করিম চৌধুরী, শাহেদ কায়েস, মিঠুন রাকসাম, সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, ড. হানা শামস আহমেদ এবং মুক্তাশ্রী চাকমা।