অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বপ্নময় টেস্ট অভিষেক তো এমনই হওয়া উচিত। পেস বোলারদের আদর্শ উইকেটে বাংলাদেশকে একশর আগেই গুটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার চোখ যখন বড় লিডের দিকে, তখনই ডানা মেললেন শরীফুল ইসলাম। সুইং, ওবল-সিম আর বাউন্সের মিশেলে দম ফেলতে দিলেন না প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদেরও। নাটকীয় প্রথম দিনে তাই দারুণভাবেই ম্যাচে ফিরে এসেছে নাজমুল হোসেনের দল।
মিচেল স্টার্কের তোপের মুখে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শরীফুল ইসলামের বিধ্বংসী বোলিংয়ে স্বস্তিতে নেই অস্ট্রেলিয়াও। দিনের খেলা শেষে ১৬৫ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিক দল। লিড অবশ্য হয়ে গেছে ১০১ রানের।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় হয়েছিল বলেই কিছুটা আশার আলোও দেখা যাচ্ছিল। কারণ, উইকেটে পেসারদের জন্য তখনও অনেক কিছু ছিল আর বাংলাদেশের পেসাররা আছেন দারুণ ছন্দে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য চমক হয়ে আসেন শরীফুল। তাসকিন আহমেদ প্রথমে ম্যাট রেনশোকে আউট করার পর চেপে ধরেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডার। ট্রাভিস হেডকে (২২) বোল্ড করেন প্রথমে। এরপর মার্নাস লাবুশেনও (৪) তার শিকার হন।
এরপর অবশ্য স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে দারুণ একটা জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে লিড এনে দেন। ফিরতি স্পেলে এসে স্মিথকে (৪৪) সাজঘরের পথ দেখান বাঁহাতি এই পেসার।
অ্যালেক্স কেয়ারিকে মাঝে মেহেদি হাসান মিরাজ থামান ৫ রানে। ঠিক এক ওভারে জোড়া আঘাতে অস্ট্রেলিয়াকে চোখ রাঙান শরীফুল। ইনিংসে পূর্ণ হয় পাঁচ উইকেট।
এরপর স্টার্ককে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়াকেও অল্পে অলআউট করার আশা জাগান। তবে গ্রিন (৫১) আর সেটা হতে দেননি। নাথান লায়নকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ১৭ রানের জুটিতে শেষ করেন দিনের খেলা।
ম্যাকাইয়ের উইকেটে যা ভাবা হয়েছিল, প্রথম দিনে তার চেয়েও বেশি সহায়তা পেয়েছেন পেসাররা। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে পড়তে হয় অগ্নিপরীক্ষার মুখে, যেখানে প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফেরান স্টার্ক।
সেই শুরু, পরবর্তী কয়েক ওভারে বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডারে ধস নামান স্টার্ক। অবিশ্বাস্য এক স্পেলে মাত্র ৪ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। ২১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা বাংলাদেশের আর শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দিতে পারেনি।
৩৯ রানে চলে গিয়েছিল ৯ উইকেট। শেষ উইকেটে তাইজুল ইসলাম ও ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করা শরীফুল ইসলামের ২৫ রানের জুটিতে কিছুটা মান রক্ষা হয় বাংলাদেশের। এরপর বল হাতেও দলকে ম্যাচে ধরে রেখেছেন সেই শরীফুলই।