বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে থাকা ‘কিছু অস্বস্তির বিষয়’ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র সরকার বর্তমানে পর্যালোচনা করছে।
আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করিনি। কিছু অস্বস্তির বিষয় রয়েছে। তিনি জানেন, আমিও জানি। সেগুলো সমাধান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রয়োজনীয়তা সবাই বোঝেন।”
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। সম্মেলনে বৈশ্বিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. খলিলুর বলেন, “আমরা বিষয়টি এখন পর্যালোচনা করছি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই আপনাদের জানানো হবে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কোনো বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। সেটাই স্বাভাবিক, কারণ এসব নিয়ে আলোচনার জন্য আমাদের সামনে সময় আছে। তবে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার বিষয়ে আমরা আগেও বলেছি এবং এ বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত।”
তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেবে।
খলিলুর রহমান বলেন, বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়নি; বরং সামগ্রিকভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একাধিক আন্তর্জাতিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কেও যাবেন।
তিনি বলেন, “সবকিছু সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে।”
সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে বৈঠকটি হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকবে।
খলিলুর রহমান জানান, তিনি ফিলিপাইনের ম্যানিলায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং জয়শঙ্কর বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে তার বৈঠকের বিষয়টি জানতেন।
তিনি বলেন, “আমরা উভয়েই আশা প্রকাশ করেছি যে, আগামী দিনে দুই দেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবে।”