ফ্রান্সে স্কুলের জরাজীর্ণ অবস্থা, পর্যাপ্ত সম্পদের ঘাটতি এবং চাপযুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে এই বিক্ষোভের ঢেউয়ে এ পর্যন্ত ৭৬ জন আহত হয়েছে বলে আজ বুধবার জানিয়েছেন ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
টেলিভিশনের ছবিতে দেখা গেছে, লিয়নে সারিবদ্ধভাবে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন। অন্যদিকে লিল এবং প্যারিসের উত্তরে সাঁ-দেনিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্কুলের বাইরে অবস্থান করছে। লিল ও লিয়নে লোকজন আবর্জনার পাত্রসহ বিভিন্ন জিনিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। লিলে কয়েকজনকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়তেও দেখা গেছে।
“এই বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে মোট ৭৬ জন আহত হয়েছেন,” জেফ্রে আরটিএল রেডিওকে বলেন।
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ও অবরোধ মঙ্গলবারের বৃহত্তর সরকারি খাতের ধর্মঘটের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ফ্রান্সের জন্য সংবেদনশীল এক সময়ে তা রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সরকার ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণা করবে। সরকারি অর্থের ওপর চাপ কমাতে ওই বাজেটে ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ থাকার কথা রয়েছে।
উগ্র বামপন্থী ফ্রান্স আনবোড পার্টির রাজনীতিকেরাও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। তবে দলটির রাজনৈতিক শিবিরের বাইরের কর্মকর্তা ও রাজনীতিকরা তাদের সমালোচনা করে বলেছেন, তাদের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও উসকে দিচ্ছে। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ফ্রান্স আনবোড দলের মেয়র বালি বাগায়োকো বলেছেন, তার বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটের বাইরে নিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমকে বলেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভের ঘটনায় প্রায় ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ছোড়ার সাতটি ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ব্যয় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে এবং ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এ ব্যয় বেড়েছে। তবে মোট বাজেটে শিক্ষার অংশ সামান্য কমেছে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। অন্যদিকে সরকার বিক্ষোভকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছে। তবে উচ্চবিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো স্বীকার করে সেগুলোর সমাধান করা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে।