ads

শাহ আলী মাজারে হামলায় কারা ?

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
শাহ আলী মাজারে হামলায় কারা ?
শাহ আলী মাজারে হামলা। ছবি: ফেসবুক

রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী (র.) এর মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কিছু লোক লাঠিসোটা নিয়ে মাজারে থাকা লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাজারে হামলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, কিছু লোক লাঠি দিয়ে মাজারে থাকা লোকজনকে মারধর করে বের করে দিচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, মাজারে মাদক সেনবকারীদের মারধর করেছে একটি গ্রুপ। ওই গ্রুপটির মধ্যে স্থানীয় ও জামায়াতে ইসলামীর কিছু কর্মী ছিল। আর জামায়াত বলছে, তাদের কোনো কর্মী এ ঘটনায় জড়িত নয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু লোক মাজারে অবস্থানরতদের লাঠিপেটা করছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতে হঠাৎ করে একটি দল মাজারে ঢোকে। তাদের হাতে লাঠি ও পাইপ ছিল। ওই দলটি মাজারে ঢুকেই ভেতরে থাকা অনেককে মারধার করে। এরপর মাজার থেকে তাদের বের করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর শাহ আলী থানার আমির হাফিজুর রহমান চরচাকে বলেন, “আমিও শুনছি সেখানে অভিযান হয়েছে।”

অভিযান কারা চালিয়েছে জানতে চাইলে হাফিজুর রহমান বলেন, “কারা চালিয়েছে, সেটা বলতে পারি না। প্রশাসন নিশ্চয়ই। আমাদের কোনো লোক ছিল না। কিন্তু সাধারণ লোক ছিল। আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দিয়ে, কোনো লোক ছিল না।”

অভিযানের কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল কি না জানতে চাইলে হাফিজুর রহমান বলেন, “এগুলো প্রশাসনের কাজ। এটা আমরা করব কেন? সেখানে প্রশাসনের বাইরে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্যও আমাকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।”

ডিএমপির দারুসসালাম জোনের সহকারী কমিশনার এমদাদ হোসেন চরচাকে বলেন, “শাহ আলী মাজারে যারা মাদক সেবনকারী তাদের সঙ্গে যারা মাজার জিয়ারত করতে এসেছিল তাদের একটি ঘটনা ঘটেছে। সকালে আমি একটি ভিডিও দেখলাম।”

এমদাদ হোসেন আরও বলেন, “কিছুটা সত্যতা আমরা পেয়েছি। সেখানে যে শুধু জামায়াতের লোক ছিল এটা এমন না। সেখানে স্থানীয় কিছু লোকও ছিল।”

এমদাদ হোসেন আরও বলেন, “ভিডিও দেখে বুঝলাম, মাদকসেবীদের মারধর করা হয়েছে।”

জামায়াতের লোক ছিল কি না জানতে চাইলে এমদাদ হোসেন বলেন, “হ্যাঁ, কিছু লোক ছিল। আমরা কিছু…, ভিডিওতেও তাই দেখলাম।”

পুলিশের কোনো অভিযান ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা করিনি। আমরা জানি বৃহস্পতিবারে ওখানে গান-বাজনা হয়। ওখানে অভিযান করলে তো ভিডিওতে আমাদের দেখতে পেতেন।”

অভিযোগ পেলে মামলা হবে বলে জানিয়েছেন এমদাদ হোসেন।

এদিকে শুক্রবার জামায়েতে ইসলামী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শাহ আলী মাজারে মাদকের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ছিল। যার সাথে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “সব কিছুতে জামায়াতকে জড়িয়ে প্রোপাগান্ডা করা কিছু দল ও মিডিয়ার মজ্জাগত অভ্যাস হয়ে দাড়িয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জামায়াত মানুষের গণতান্ত্রিক, ধর্মীয় অধিকার এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি শান্তিপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দল। যে দলের কর্মীরা কখনো ভায়োলেন্স বিশ্বাস করে না।

সম্পর্কিত