শুরু থেকেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে যা বলে এসেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, সেটা এবার আনুষ্ঠানিকভাবেই জানালেন। চলতি বছর বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা নেই বিসিবির। সময় নিয়ে স্বচ্ছভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক।
বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হয়েই তামিম জানিয়েছিলেন, জোড়াতালির বিপিএল আর নয়। মাঝে অবশ্য গুঞ্জন ছিল এবারের আসর মাঠে গড়ানোর। তবে শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে বিপিএল।
মিরপুরে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তামিম বিপিএল প্রসঙ্গে বলেন, “আমার মনে হয় না এই বছর বিপিএল হবে। বিপিএলের গত দুই আসরে বিসিবির ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। টুর্নামেন্টে এক আসরে ২০ কোটি টাকা করে ক্ষতি হয়, তার মানে কিছু একটা জিনিস আছে যা ঠিকমত হচ্ছে না। তাই এমন একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা এই মুহূর্তে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। আমরা কি বিপিএল চাই? এক শ ভাগ। আমি কি তাড়াহুড়ো করে বিপিএল চাই? মোটেও না। আমরা কি সঠিকভাবে বিপিএল চাই? অবশ্যই।”
“আমরা যদি এখন বিপিএল করতে চাই, তাহলে দুইটা ফ্র্যাঞ্চাইজি আছে রংপুর আর রাজশাহী। তবে এমনকি রাজশাহীরও সব কিছু মানা হয়েছে, সেটাও না। তারা শতভাগ পারিশ্রমিক দিয়েছে, তবে তারা কি সব নিয়ম মেনেছে? না। তাই আমরা সব প্রক্রিয়া মেনে সময় নিয়ে এটা করতে চাই। সেটা ৬ মাস, ১২ মাস বা ১৮ মাসও যদি লাগে, আমরা সেই সময়টা নেব।”
বিপিএলে এক বছর আগেই ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল কয়েক বছরের জন্য। সেখানে চুক্তির বাইরে গিয়ে যদি বিসিবি এভাবে এক আসর বাতিল করে, তাতে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিশেষ করে রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মত দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি।
তামিম নিশ্চিত করেছেন এখানেও স্পষ্ট থাকার বিষয়টি, “আমরা অবশ্যই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বসব। আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে এরকম অনেক সংবাদ সম্মেলনে আপনা তথ্য পাবেন এই ব্যাপারে। তবে আমি আবারও বলতে চাই, ২০ কোটি টাকা ক্ষতি করে আমরা বিপিএল আয়োজন করতে চাই না।”
তামিম সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেছেন, সব প্রক্রিয়া মেনে একটা ভালো বিপিএল হবার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বিপিএল আয়োজনে তাড়াহুড়ো নেই। আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে যদি সব ফ্র্যাঞ্চাইজি পাওয়া যায় নিয়ম মেনে, তাহলে আগামী বছর বিপিএল হতে পারে।