গত জুলাইয়ে জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। ওই হামলায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তেহরানকে স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এই প্রতিবেদনকে পাত্তা না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, “চীন আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে। আপনারা ঠিকই বলেছেন, আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। এর আগে নাম প্রকাশ না করা কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় চীনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা উচ্চমানের স্যাটেলাইট চিত্রের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সঙ্গে চীনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অবশ্য প্রকাশ্যে তোলেনি তারা।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৭ জুলাইয়ের হামলায় ব্যবহৃত স্যাটেলাইট চিত্রের বিষয়ে চীনা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এবং এর প্রমাণও দাবি করা হয়েছিল। চীন অবশ্য ওয়াশিংটনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।
এনডিটিভি বলছে, এই ঘটনা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সফরের আগে ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
আসন্ন বৈঠকে ট্রাম্প এই বিষয়টি তুলবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রমকে একইভাবে দেখান। তিনি বলেন, “তারা মূলত আমাদের মতোই কাজ করে। চীন আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে। আপনারা ঠিকই বলেছেন, আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।”
ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নানা বিষয়ে উত্তেজনা থাকলেও তা কমিয়ে দেখানোর জন্য তার প্রশাসন সম্প্রতি যে চেষ্টা করছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য তারই ধারাবাহিকতা বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তবে ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ রয়েছে।