চরচা ডেস্ক

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট। বাংলাদেশে চলছে মুক্তিযুদ্ধ। সেই সময়ে, নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন সাক্ষী হয়েছিল এক অভূতপূর্ব ইতিহাসের। বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন এবং সেতার সম্রাট পণ্ডিত রবি শংকরের উদ্যোগে আয়োজিত দুটি কনসার্ট কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই -ভয়াবহ বন্যা, দুর্ভিক্ষ এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কবলে পড়া তৎকালীন বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
সংগীত ইতিহাসের অন্যতম এই মানবিক উদ্যোগটি কেবল অর্থ সাহায্যই আনেনি, বরং বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন সংকটের দিকে। ঐতিহাসিক সেই কনসার্টের টিকিট বিক্রি এবং ক্যাসেট থেকে অর্জিত আয়ের প্রতিটি পয়সা ইউনিসেফের তহবিলে সরাসরি জমা দেওয়া হয়েছিল। সংগীতের ইতিহাসে 'বাংলাদেশ' গানটি এক অনন্য মাইলফলক, কারণ এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম 'চ্যারিটি গান' বা জনহিতকর সংগীত।
২০০৫ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান এই গানের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, গানটির প্রতিটি লাইনে এমন এক হৃদয়স্পর্শী আবেদন ছিল, যা বাংলাদেশের মানুষের সংকটকে সরাসরি বিশ্ববাসীর হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছিল। এটি কেবল একটি গান ছিল না, বরং ছিল মানবতার পক্ষে এক জোরালো কণ্ঠস্বর।
মূলত এই আয়োজনটিই পরবর্তীতে বেনিফিট কনসার্ট বা জনহিতকর কনসার্টের মডেলে পরিণত হয়।
জর্জ হ্যারিসনের গানের দল ছিল বিটলস। তিনি ছিলেন বিটলসের লিড গিটারিস্ট। আজ, ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের এই অকৃত্রিম বন্ধু হ্যারিসনের জন্মদিন।
জর্জ মূলত লিড গিটারিস্ট হলেও বিটলসের প্রতিটি অ্যালবামেই তার নিজের লেখা ও সুর দেওয়া দু-একটি একক গান থাকত, যা হ্যারিসনের প্রতিভার পরিচায়ক ছিল। বিটলসের হয়ে এ সময়ের গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—ইফ আই নিডেড সামওয়ান, ট্যাক্সম্যান, হোয়াইল মাই গিটার জেন্টলি উইপস, হেয়ার কামস দ্য সান ও সামথিং ইত্যাদি। বিটলস ভেঙে যাওয়ার পরও তার জনপ্রিয়তা কমেনি। ’৭০-পরবর্তী সময়ে তার অনেক গান প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়েছিল। এ সময়কালের গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—মাই সুইট লর্ড (১৯৭০), গিভ মি পিস অন আর্থ (১৯৭৩), অল দোজ ইয়ার্স এগো (১৯৮১), গট মাই মাইন্ড সেট অন ইউ (১৯৮৭)।
সংগীত জগতের ধ্রুবতারা জর্জ হ্যারিসনের শেষ জীবন ছিল নাটকীয়তা এবং শারীরিক লড়াইয়ে ঘেরা। ১৯৯৯ সালে নিজ বাসভবনে এক আততায়ীর অতর্কিত হামলার শিকার হন তিনি। সে যাত্রায় শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাত নিয়ে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও পরবর্তী সময়গুলো ছিল প্রচণ্ড যন্ত্রণার।
হ্যারিসনের দীর্ঘ লড়াই কেবল বাহ্যিক শত্রুর সঙ্গেই ছিল না, ছিল মরণব্যাধি ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও। ১৯৯৭ সালে প্রথম তাঁর গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর ২০০১ সালে তিনি ফুসফুসের ক্যান্সার এবং মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হন। ২০০১ সালে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট। বাংলাদেশে চলছে মুক্তিযুদ্ধ। সেই সময়ে, নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন সাক্ষী হয়েছিল এক অভূতপূর্ব ইতিহাসের। বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন এবং সেতার সম্রাট পণ্ডিত রবি শংকরের উদ্যোগে আয়োজিত দুটি কনসার্ট কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই -ভয়াবহ বন্যা, দুর্ভিক্ষ এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কবলে পড়া তৎকালীন বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
সংগীত ইতিহাসের অন্যতম এই মানবিক উদ্যোগটি কেবল অর্থ সাহায্যই আনেনি, বরং বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন সংকটের দিকে। ঐতিহাসিক সেই কনসার্টের টিকিট বিক্রি এবং ক্যাসেট থেকে অর্জিত আয়ের প্রতিটি পয়সা ইউনিসেফের তহবিলে সরাসরি জমা দেওয়া হয়েছিল। সংগীতের ইতিহাসে 'বাংলাদেশ' গানটি এক অনন্য মাইলফলক, কারণ এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম 'চ্যারিটি গান' বা জনহিতকর সংগীত।
২০০৫ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান এই গানের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, গানটির প্রতিটি লাইনে এমন এক হৃদয়স্পর্শী আবেদন ছিল, যা বাংলাদেশের মানুষের সংকটকে সরাসরি বিশ্ববাসীর হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছিল। এটি কেবল একটি গান ছিল না, বরং ছিল মানবতার পক্ষে এক জোরালো কণ্ঠস্বর।
মূলত এই আয়োজনটিই পরবর্তীতে বেনিফিট কনসার্ট বা জনহিতকর কনসার্টের মডেলে পরিণত হয়।
জর্জ হ্যারিসনের গানের দল ছিল বিটলস। তিনি ছিলেন বিটলসের লিড গিটারিস্ট। আজ, ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের এই অকৃত্রিম বন্ধু হ্যারিসনের জন্মদিন।
জর্জ মূলত লিড গিটারিস্ট হলেও বিটলসের প্রতিটি অ্যালবামেই তার নিজের লেখা ও সুর দেওয়া দু-একটি একক গান থাকত, যা হ্যারিসনের প্রতিভার পরিচায়ক ছিল। বিটলসের হয়ে এ সময়ের গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—ইফ আই নিডেড সামওয়ান, ট্যাক্সম্যান, হোয়াইল মাই গিটার জেন্টলি উইপস, হেয়ার কামস দ্য সান ও সামথিং ইত্যাদি। বিটলস ভেঙে যাওয়ার পরও তার জনপ্রিয়তা কমেনি। ’৭০-পরবর্তী সময়ে তার অনেক গান প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়েছিল। এ সময়কালের গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—মাই সুইট লর্ড (১৯৭০), গিভ মি পিস অন আর্থ (১৯৭৩), অল দোজ ইয়ার্স এগো (১৯৮১), গট মাই মাইন্ড সেট অন ইউ (১৯৮৭)।
সংগীত জগতের ধ্রুবতারা জর্জ হ্যারিসনের শেষ জীবন ছিল নাটকীয়তা এবং শারীরিক লড়াইয়ে ঘেরা। ১৯৯৯ সালে নিজ বাসভবনে এক আততায়ীর অতর্কিত হামলার শিকার হন তিনি। সে যাত্রায় শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাত নিয়ে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও পরবর্তী সময়গুলো ছিল প্রচণ্ড যন্ত্রণার।
হ্যারিসনের দীর্ঘ লড়াই কেবল বাহ্যিক শত্রুর সঙ্গেই ছিল না, ছিল মরণব্যাধি ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও। ১৯৯৭ সালে প্রথম তাঁর গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর ২০০১ সালে তিনি ফুসফুসের ক্যান্সার এবং মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হন। ২০০১ সালে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।