পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকায় একটি পুলিশ স্টেশনে আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন সোয়াতের কাবাল শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর আল জাজিরার।
সোয়াত জেলা পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) উমর খান জানান, পুলিশ স্টেশনের মূল প্রবেশপথে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশি করার চেষ্টা করেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। ঠিক তখনই হামলাকারী তার শরীরে থাকা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটান।
সোয়াতের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ফিদা হোসেন জানান, হামলায় অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বিস্ফোরণের সময় সোয়াতে সাম্প্রতিক উগ্রপন্থি ও সন্ত্রাসী হামলা বাড়ার প্রতিবাদে কাবাল পুলিশ স্টেশনের কাছেই স্থানীয়রা বিক্ষোভ করছিলেন। শেষ বক্তা বক্তব্য দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে শুরু করেন।
২০০৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের আগে এই উপত্যকাটি পাকিস্তান তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ছিল।
এর ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার হাঙ্গু জেলায় বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে ১১ পুলিশ সদস্য নিহত হন। এছাড়া জুলাইয়ের শেষ দিকে পাশের ট্যাংক জেলায় গাড়িবোমা হামলায় ২৭ সেনাসদস্য নিহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল টিটিপি।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। এসব গোষ্ঠীই পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করে বলে ইসলামাবাদের দাবি। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালায়। কাবুল ও জাতিসংঘের দাবি, ওই হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হন।