খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, “খাদ্য গুদামের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে আমরা কাজ করছি। সরকারি খাদ্য কর্মসূচির প্রকৃত সুফল যাতে প্রকৃত সেবা গ্রহীতারা পান, তা নিশ্চিত করা হবে।”
আজ রোববার মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার সদর এলএসডির (লোকাল স্টোরেজ ডিপো) বেউথা ক্যাম্পাস এবং সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া এলএসডি আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “যেকোনো সময় দুর্যোগ পরিস্থিতি আসতে পারে। তখন যেন আমরা তা সামাল দিতে পারি, সেভাবেই খাদ্য মজুত করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “খাদ্য গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে কি না এবং মজুত খাদ্যশস্য নিরাপদ ও মানসম্মত অবস্থায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করাই আমার প্রথম কাজ। এ লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলার খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করা হবে।”
মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলার খাদ্য গুদামে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে জানিয়ে আফরোজা খানম বলেন, “এখানে মজুত করা ধান, গম ও আটার গুণগতমান সন্তোষজনক। মানিকগঞ্জে যেভাবে খাদ্য মজুত রয়েছে, দেশের অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের মজুত রয়েছে।”
তিনি বলেন, “দুর্যোগ কিংবা কোনো সংকট দেখা দিলে যাতে দ্রুত মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়, সে জন্য প্রতিটি জেলায় চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে। কোনো ধরনের খাদ্য সংকট নেই। জনগণের জন্য আমাদের মজুত ধান, চাল, গমসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য প্রয়োজন অনুযায়ী সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সরবরাহ করা সম্ভব।”
খাদ্য গুদামে কোনো ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা কিংবা খাদ্যশস্যের গুণগতমান নিয়ে সমস্যা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “খাদ্য গুদামে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
সম্প্রতি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামে অনিয়ম পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আফরোজা খানম বলেন, “খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।