দেশে শিল্প উৎপাদন বজায় রাখা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের বদলে আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতির দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দেশে চলমান জ্বালানি সংকট কেবল গ্যাস বা বিদ্যুতের সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন একটি গভীর অর্থনৈতিক ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।
আজ রোববার রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) কার্যালয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও এমসিসিআইর যৌথ উদ্যোগে এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এই দাবি জানান।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট মূলত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও জ্বালানি ক্রয়ের ঘাটতিরই প্রতিফলন। বারবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি স্বল্পতা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকায় দেশীয় শিল্প কারখানাগুলো তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, সিরামিক, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো উদীয়মান ও রপ্তানিমুখী খাতগুলোতে উৎপাদন বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পে স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি রূপরেখা প্রণয়ন ছাড়া কোনো বিকল্প নেইা
বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও মাসরুর রিয়াজ। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, লাফার্জহোলসিমের পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, ইএসটেক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. এজাজ হোসেন এবং বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ময়নুল ইসলাম।
মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, “একটি নির্ভরযোগ্য দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি রূপরেখার মাধ্যমে বিদ্যমান শিল্প বিনিয়োগ সুরক্ষা প্রয়োজন। এর জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়নের দিকে নজর রেখে একটি স্পষ্ট ১০ থেকে ২০ বছরের জ্বালানি কৌশলের আহ্বান জানাচ্ছি।”
ময়নুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সিরামিক শিল্পের জন্য গ্যাস কেবল একটি জ্বালানি উৎস নয়, বরং এটি একটি অপরিহার্য কাঁচামাল। তিনি সতর্ক করে বলেন, “জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগকে হুমকির মুখে ফেলছে।”
ড. এজাজ হোসেন বলেন, “জ্বালানি সংকটটি এখন আর কেবল সরবরাহের সমস্যা নয়। এটি একটি অর্থনৈতিক ও পরিকল্পনাগত চ্যালেঞ্জ।”
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “বর্তমান সংকট মূলত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও জ্বালানি ক্রয়ের ঘাটতিরই প্রতিফলন। একটি শিল্প-জ্বালানি নীতি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানি সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য একটি সমন্বিত রূপরেখা প্রয়োজন। এর মধ্যে সঠিক দাম নির্ধারণ, শিল্প খাতে জ্বালানির সুষম বণ্টন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিস্তার এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।