ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ভোটের ফলে কোনো ভুল বা অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করে চূড়ান্ত কাজ শেষ করবে সিইসি। এরপর আগামী বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ফল জমা দেওয়া হবে। পরে প্রেসিডেন্ট হারজগ প্রতিটি দলের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। কোন ব্যক্তিকে পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে দলগুলোর সুপারিশ শুনবেন তিনি।
ঘোষিত চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। নেতানিয়াহুবিরোধী জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।
চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে, এবার নেতানিয়াহুপন্থি জোটের আসন সংখ্যা আগের পার্লামেন্টের তুলনায় কমেছে ১৫টি। বিদায়ী নেসেটে ক্ষমতাসীন এই জোটের আসন ছিল ৬৮টি।
এর আগে মঙ্গলবার দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি, বি'ইয়াচাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং রা’আম ৮টি আসন। এ ছাড়া ইসরাইল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে ৭টি করে আসন। শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেয়েছে ৬টি করে আসন।
তবে নির্বাচনে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের নির্বাচনি বাধা পার হতে পারেনি কয়েকটি দল। ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি পেয়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট। ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরাইল পার্টি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। আর ইসরাইলের অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরা চারেদি পাবলিক পার্টি পেয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ ভোট।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আগামী ১০ নভেম্বর নতুন পার্লামেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সরকার গঠনের আলোচনা সহজ হবে না। এ আলোচনা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। কারণ, কোনো পক্ষের কাছেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।