চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন (৪০১ কোটি) ডলার সমমূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। আর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে মোট পোশাক আমদানি করেছে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের প্রথমার্ধে সার্বিক রপ্তানি কমলেও জুন মাসে তা ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। একক মাস হিসেবে ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি দাঁড়িয়েছে ৭৬৩ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলারে। যা গত বছরের জুন মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চরম মন্দার মুখে পড়েছে চীন ও ভারত। আর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে।
বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কম্বোডিয়ার রপ্তানি ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ, ভিয়েতনামের ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে চীনের রপ্তানি এক লাফে ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ভারতের ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া পাকিস্তানের রফতানি কমেছে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রায় সব দেশেরই পণ্যের দাম কমেছে। এই সময়ে চীনের ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ভারতে ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের ২ দশমিক ১৫ শতাংশ করে দর হারিয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে পতন হলেও চীন ও ভারতের চেয়ে কম পতন হয়েছে। সার্বিক বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান অনেকটা পাকিস্তানের কাছাকাছি এবং জুনের ইতিবাচক ধারার কারণে সামনের দিনগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৩৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্ব থেকে পোশাক আমদানি কমিয়েছে।