আমেরিকাকে ‘কঠিন পরীক্ষায়’ ফেলে দিল ইরান

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
আমেরিকাকে ‘কঠিন পরীক্ষায়’ ফেলে দিল ইরান
বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ফাইল ছবি: এক্স

আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণের মুখে বেশ দ্রুতই জবাব দিয়েছে ইরান। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাটিতে এক যোগে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার বিপরীতে ইরানের পাল্টা জবাব তাদের সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন বিমানবাহিনী কর্নেল সেড্রিক লেটন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “গত কয়েক মাস এবং কয়েক বছর ধরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যে প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করা হয়েছে, ইরানিরা প্রাথমিক হামলার জবাবে পাল্টা হামলা শুরু করায় এখন মূলত সেটিই পরীক্ষার মুখে পড়েছে।”

লেটন জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যে ইরানের প্রতিশোধ নেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া গেলেও তাদের এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া বিস্ময়কর। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান এই ধরনের তীব্র হামলার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল।

লেটন বলেন, “ইরানের কাছে উৎক্ষেপণযোগ্য প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে সমস্যা হলো অন্তত গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তাদের আগে যে পরিমাণ লাঞ্চার (ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক যন্ত্র) ছিল, এখন তা নেই।”

এই সামরিক বিশেষজ্ঞের মতে, গত বছরের জুনের হামলার আগে ইরানের কাছে যত লাঞ্চার ছিল, বর্তমানে তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট আছে বলে ধারণা করা হয়। তিনি বলেন, “যদি সেই গোয়েন্দা তথ্য সঠিক হয়, তবে ধারণা করা হয়েছিল যে ইরানের প্রতিক্রিয়া জানাতে কিছুটা দেরি হবে। কিন্তু তারা অত্যন্ত দ্রুত পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম হয়েছে, যা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক দ্রুত।”

লেটন আরও যোগ করেন, “আমি জানতাম তারা পাল্টা হামলা করবে, তবে ঠিক এই মুহূর্তে এত বড় পরিসরে আক্রমণ করবে তা ভাবিনি। সুতরাং, তারা স্পষ্টভাবেই এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।”

সম্পর্কিত