চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের উত্থান হয়েছে। এ মাসে নিট ও ওভেন মিলিয়ে মোট ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।
এই রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। আর অর্থবছরের প্রথম দুই মাস মিলিয়ে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ১২ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এক মাসেই পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৪৪ কোটি ডলার।
আগস্টে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি এসেছে নিটওয়্যার রপ্তানিতে। এ মাসে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের। গত বছরের আগস্টে এই রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, আগস্টে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারের। ২০২৫ সালের একই মাসে এ খাতের রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ওভেন পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
আগস্টের এই প্রবৃদ্ধির আগে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে অবশ্য পোশাক রপ্তানি কমেছিল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নিট ও ওভেন মিলিয়ে ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে তা কমে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। রপ্তানি কমেছিল ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।
তবে আগস্টের প্রবৃদ্ধির কারণে জুলাই-আগস্টের হিসেব পাল্টে যায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ মোট ৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৭ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ।
দুই মাসের হিসেবে নিটওয়্যার রপ্তানি ৩ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। একই সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি ৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে যা ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।