ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক দাম ২১০ কোটি ডলার। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই কিয়েভকে এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নিল যুক্তরাষ্ট্র।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এর আগেও কয়েক দফায় ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রশাসনের অন্যতম বড় উদ্যোগ।
রয়টার্স জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের কারণে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের টানাপোড়েন বেড়েছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল কেনাবেচার একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন।
সেই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোয় হামলা বন্ধ রাখতে ইউক্রেনের অনিচ্ছারও কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনাও করেন।
ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে রাশিয়া। ইউক্রেন দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছে, হামলা ঠেকাতে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তাদের জরুরিভিত্তিতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র দরকার। দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রকে বিবেচনা করা হয়।
গত সোমবার জেলেনস্কি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের জন্য প্রায় এক মাস অপেক্ষা করছে ইউক্রেন। এ সময়ে দেশটির জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আরও জোরদার করেছে রাশিয়া।
তবে ইউক্রেনের জরুরি প্রয়োজনের তাগিদের পরও দ্রুত এসব ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। অস্ত্র বিক্রির চুক্তি কার্যকর করতে সাধারণত কয়েক বছর লাগে।
অস্ত্র অনুমোদন সম্পর্কে জানেন এমন দুটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র এখনো তৈরিই হয়নি। ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকের কয়েকটা বছর পার না হওয়া পর্যন্ত এসব অস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইউক্রেন এসব ক্ষেপণাস্ত্র কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের দেওয়া অর্থে কিনবে। এ অর্থ ‘ইউএস জাম্পস্টার্ট’ নামের একটি কর্মসূচির মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন’ নামের ঋণ প্রকল্প থেকে পাওয়া অর্থও ব্যবহার করা হবে।