সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয় এ লংমার্চ।
এর আগে বায়তুল মোকাররকম মসজিদের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশে অংশ নেন জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতারা। লংমার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না।
প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘‘চারদিনে সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফিরেছেন। কী জন্য গিয়েছিলেন? আর কী করে এসেছেন? জাতির সামনে তাকে এটা খোলাসা করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কিনা, জাতি তা পরিষ্কার জানতে চায়। কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না।’’
বিএনপির উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তাদের পরিণতি তারা ভোগ করছে। তাদের তো দিদি-দাদা ছিল, আপনাদের কে আছে? জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে পার পাবেন না।’’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘‘বিএনপি জাতির সাথে ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে। কথা দিয়ে কথা ভঙ্গ করেছে। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে। জাতির আকাঙ্ক্ষা, গণরায়কে উপহাস করেছে। আমরা বিএনপিকে বলেছিলাম, ভালোয় ভালোয় এখান থেকে ফিরে আসুন। গণরায় বাস্তবায়ন করুন, না হলে আপনাদের উচ্চমূল্য দিতে হবে। সেদিকেই সম্ভবত বিএনপি আগাচ্ছে।’’
এর আগে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং ঢাকা থেকে রংপুর দুটি লংমার্চ করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এই জোট।
এবারের জামায়াত জোটের লংমার্চে ঢাকার বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ ছাড়া শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা; বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়; খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর ও ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর; যশোরের মুড়লীর মোড়; ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালে পথসভা হবে। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও লংমার্চ রুটের বিভিন্ন স্থানের গণজমায়েত স্থলে অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখবেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ নেতারা।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা লংমার্চে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এবারের লংমার্চে দাবিগুলো—
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি রোধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।