ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ফ্লোরেস অঞ্চলে ফের ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৪৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
জার্মানির ভূতত্ত্ব গবেষণা সংস্থা জিএফজি জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, নতুন এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর কয়েক দফা আফটারশকও অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ৫৩ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিক্কা, মাঙ্গারাই এবং পূর্ব মাঙ্গারাই জেলা। ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে এবং মাউমেরে বন্দরের টার্মিনাল অবকাঠামো ভেঙে অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবারের ভূমিকম্পটি ইন্দোনেশিয়ায় ২০২২ সালের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। ২০২২ সালে পশ্চিম জাভায় একটি ভূমিকম্পে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছিল।
বিএনপিবি জানিয়েছে, আফটারশকের আতঙ্কে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিপুল সংখ্যক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পাহাড়ি এলাকা ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। সংস্থাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে দূরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে।
প্রায় ২৯ কোটি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া অনেকগুলো দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দেশটি ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ারের’ ওপর অবস্থিত। এটি এমন একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা, যেখানে কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের মিলন ঘটে। এ কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়।