লিওনেল মেসি মানেই আস্ত একটা রেকর্ড বই। সেই বইয়ের পৃষ্ঠার সংখ্যা শুধু বেড়েই চলেছে। কাল মিশরের বিপক্ষে যেমন আরও কয়েকটি পৃষ্ঠা যোগ করলেন আর্জেন্টাইন তারকা।
ম্যাচটা ছিল রূদ্ধশ্বাস। ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষের ১৩ মিনিটে ঝড় তুলে প্রতিপক্ষকে ৩ গোল ফেরত দিয়ে বিশ্বকাপে শেষ আট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। যদিও ২১ মিনিটে পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। গ্রুপপর্বেও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেছিলেন। তবুও সমতাসূচক গোলটি এসেছে তার পা থেকেই। মিশরের বিপক্ষে গোলটি এবারের বিশ্বকাপে মেসির টানা ষষ্ঠ ম্যাচে গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে টানা নয় ম্যাচে গোল পেলেন মেসি। ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা নয় ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি আগেই হয়েছেন। কালকের ম্যাচ নিয়ে তার গোলসংখ্যা ২১।
কাল মিশরের বিপক্ষে গোল করে ১৯৩০ সালের এক রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন মেসি। ওই রেকর্ডটি অবশ্য আর্জেন্টাইন রেকর্ড। ১৯৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গিয়ের্মো স্তাবিলে ৮ গোল করেছিলেন। ওটাই ছিল বিশ্বকাপে কোনো আর্জেন্টাইনের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। মেসি কাল এবারের বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোলটি করে স্তাবিলের পাশে বসলেন। একই সঙ্গে টানা ৬ নকআউট ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েছেন মেসি।
নানা রেকর্ডে নিজের নাম তুললেও মেসিকে অবশ্য এসব সেভাবে স্পর্শ করে না। ম্যাচের পর তিনি নিজের পেনাল্টি মিসটাকেই সামনে নিয়ে এসেছেন। নিজের প্রতি বিরক্তিও ঝরেছে তার, “আমি পেনাল্টিটি মিস করে নিজের ওপর খুব বিরক্ত ছিলাম। আমার মনে হয়েছিল পেনাল্টি মিস করে আমি দলকে ডোবালাম।”
কোয়ার্টার ফাইনালে দলকে তোলার পর মেসি আরও বলেছেন, “২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পেরে আমি খুশি এবং যেভাবে আমরা এটা করেছি তা নিয়েও। ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আবারও ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়াটা অনেক রোমাঞ্চকর যাত্রা ছিল।”