মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে পেরু। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শান্তির প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং গণতন্ত্র রক্ষার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
পেরুর দাবি, ইরানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবনতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। দেশটিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-নিপীড়ন চালানো হয়েছে, স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা দেওয়া হয়েছে, নারী ও মেয়ে শিশুদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে এবং বিরোধী রাজনীতিবিদদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায়ও উদ্বেগ জানিয়েছে পেরু। এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহে সমস্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটি।
মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা উসকে দেওয়া, সংঘাত বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাজ বাধাগ্রস্ত করার জন্যও ইরানের সমালোচনা করেছে পেরু।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার মধ্যেই পেরু এই সিদ্ধান্ত নিল। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
আনাদোলু জানিয়েছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও দুই দেশের নাগরিকদের স্বার্থ বিবেচনায় কনস্যুলার সম্পর্ক চালু রাখবে পেরু। ইরানকে কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।