রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভা চলাকালে হামলা, মব সৃষ্টি, সভায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং পরবর্তীতে ২৮৯ জনকে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
আজ রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
এতে বলা হয়, গতকাল শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২৮৯ জনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য- সেখানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা জড়ো হয়েছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অন্যদিকে জাসদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের পূর্ব নির্ধারিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। জাসদের অভিযোগ- সভা চলাকালে যুবদলের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে মব সৃষ্টি এবং নেতা-কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
আসক মনে করে, কোন রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কার্যালয়ে পূর্ব নির্ধারিত সভা চলাকালে মব তৈরি করে তা ভণ্ডুল করা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে যুবদলের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের মব সৃষ্টি ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার এবং ৩৮ অনুচ্ছেদে সংগঠন করার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। একইভাবে, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (আইসিসিপিআর) ২১ অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং ২২ অনুচ্ছেদে সংগঠনের স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়েছে। এসব অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশের অন্যতম ভিত্তি।
জাসদ কার্যালয়ে হামলা, মব সৃষ্টি ও রাজনৈতিক কর্মীদের লাঞ্ছিতের অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছে আসক। পাশাপাশি সংস্থাটি বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলেছে, গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজসহ ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে হামলা, উস্কানি, সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে।