কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সৌদি মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার হয়েছে। এ হামলায় জাহাজটিতে থাকা অন্তত দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের জাতীয় নৌপরিবহন কোম্পানি বাহরির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের জাহাজ ‘সিদর’ হামলার শিকার হয়েছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের উত্তরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ‘সিদর’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় একই সময়ে মুসান্দামের পূর্বদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন সুপারট্যাঙ্কার ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এর আগে ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অননুমোদিত পথ ব্যবহার করার সময় মাইন বিস্ফোরণে দুটি ট্যাংকারে আগুন লাগে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরান ও ইরানি বাহিনীর ওপর দফায় দফায় বিমান হামলা চালানোর পর নাবিকদের মৃত্যুর খবর আসে। এর জবাবে ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। জুলাইয়ের পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলা।
স্থানীয় সময় বুধবার ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১৮ জন নিহত ও ১০৮ জন আহত হয়েছেন।
ইরান অভিযোগ করেছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে চারজনকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধাপরাধ’ করেছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে পাওয়া প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখছে।