চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার আলোচিত ডাকাতি ও গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য দুই দিনের মধ্যে উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ননদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা (২৩) গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারিক হাকিমের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি ব্যক্তিগত প্রতিশোধের জেরে ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে তার বড় ভাবি রিগান আক্তার মিমকে (২৬) শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ভোর সাড়ে ৩টার মধ্যে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাওলা এলাকার একটি বাড়িতে এই ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে ওসির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ জানায়, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সন্দেহের ভিত্তিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের ননদ সুমাইয়াকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুমাইয়া ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে মিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ওসি আরও জানান, তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে সুমাইয়া ডাকাতির একটি সাজানো গল্প তৈরি করেছিলেন বলেও জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন।
নিহত রিগান আক্তার মিমের পরিবারে আড়াই বছর বয়সী মেয়ে সাইফা এবং চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজ রয়েছে। ঘটনার সময় তার স্বামী রনি কর্মসূত্রে ঢাকায় ছিলেন।