টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কার্পেটিং (বিটুমিন) ধুয়ে গেছে, কোথাও সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) ধসে পড়েছে। পাশাপাশি ব্রিজ-কালভার্টের গাইড ওয়াল এবং চারটি ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৮০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সড়ক বিভাগ।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়,ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য বাগেরহাট সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বাগেরহাট-পিরোজপুর ও সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ফকিরহাট, চিতলমারী এবং জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে অনেক স্থানে কার্পেটিং ধুয়ে ইট ও পাথরের খোয়া বেরিয়ে এসেছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও এসব গর্তে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়কের ঢাল ধসে যাওয়ায় কোনো কোনো অংশ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৪২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১০১ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ১১০ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ২২৮ কিলোমিটার। টানা বৃষ্টিতে এর মধ্যে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ৪০টি ব্রিজ-কালভার্টের গাইড ওয়াল ধসে গেছে। মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, রায়েন্দা ও লাউডোব ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক জানান, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাদের ১৮০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় সড়কের হ্যাজিং, ব্রিজ-কালভার্টের গাইড ওয়াল এবং ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। সব মিলিয়ে বৃষ্টির কারণে প্রাথমিক হিসাবে জেলায় সড়ক বিভাগের ৮০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক, ব্রিজ-কালভার্টের গাইড ওয়াল এবং ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক জরুরি ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সংস্কার করা হবে। এরই মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
আলামীন শেখ, কালাম হোসেন, রফিক ইসলাম, সোহেল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন যানবাহন চালকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৃষ্টির পর বাগেরহাটের বিভিন্ন সড়ক খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। খানাখন্দের কারণে ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, বৃষ্টির আগে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক স্বাভাবিক ছিল। যানবাহনে তারা স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছিলেন। কিন্তু বৃষ্টির পর থেকে যানবাহনে চলাচলের সময় নানা ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। মাঝেমধ্যে যানবাহন সড়কের খানাখন্দে পড়ে যাত্রীরা শরীরে আঘাত পাচ্ছেন।
যানবাহনের চালক ও সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যাত্রী দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
গত ৫ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত বাগেরহাটে থেমে থেমে এবং কখনও মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া বৃষ্টির সময় গ্রামীণ মাটির সড়কও অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নিম্নআয়ের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।