Advertisement Banner

জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, ৪৪ বছরের কারাদণ্ড

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, ৪৪ বছরের কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি

জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে মোট ৪৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আজ সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমান এই আদেশ দেন।

২৭ বছর আগে ব্যাংক থেকে অতিরিক্তি ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা তুলে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেওয়া হয়। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন এই মামলাটি করে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি মো. রেজাউল করিম রনি বলেন, “ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে পারস্পরিক যোগসাজোশে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় পৃথক ছয়টি ধারায় তিনজন আসামির প্রত্যেককে এই সাজা দেওয়া হয়।”

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) অফিসের সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) মো. কামরুল আলম এবং সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) সাদিকুর রহমান খান।

তিনজনই পলাতক এবং বিভিন্ন ধারায় দেওয়া সাজা একসাথে কার্যকর হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে আসামি মোহাম্মদ হোসেন যে পরিমাণ টাকা উত্তোলনের কথা ছিল তার চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ২৪টি চেকের মাধ্যমে তুলে নেয়।

এই টাকা ক্যাশবুকে প্রদর্শন করেনি এবং সরকারি কোষাগারেও জমা দেয়নি। ওই সময়ে অতিরিক্ত টাকা তুলতে ক্ষমতাপত্র প্রদানের মাধ্যমে তাকে সহায়তা করেন তিন বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম, মো. সাদিকুর রহমান খান ও স্বপন কুমার মিত্র।

এই চারজনের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সেসময়ে চট্টগ্রামের জেলা দুর্নীতি দমন অফিসার মো. নুর আহাম্মদ বাদী হয়ে ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন।

দণ্ডবিধির ৭টি ধারায় এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছিল। এই মামলার তদন্ত চলাকালে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত হয় এবং এক আসামি স্বপন কুমার মিত্র মারা যান। পরে ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে তিন আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়া হয়।

প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে জমা দেওয়া দুদকের অভিযোগপত্রে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। ২০১৪ সালের ৮জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার আদালত এই রায় দেয়।

এরমধ্যে দুটি ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছর করে, দুটি ধারায় ৭ বছর করে এবং অন্য দুটি ধারায় ৫ বছর করে মোট ৪৪ বছর সাজা দেয় আদালত। এছাড়াও ছয় ধারায় ভিন্ন ভিন্ন অংকে প্রত্যেককে মোট এক কোটি টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে প্রত্যেককে মোট আরো তিন বছর ৬ মাসের সাজাও দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত