অস্ট্রেলিয়ায় কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে প্রথমবারের মতো এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি আজ রোববার দেশটি নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি লম্বা-নাকওয়ালা ফার সিলের দেহে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ায় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশটি অত্যন্ত সংক্রামক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ মোকাবিলা করছে। চলতি মাসে দেশটিতে প্রথমবারের মতো ভাইরাসটির কারণে বিপুলসংখ্যক সামুদ্রিক পাখি মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখির দেহে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর ভাইরাসটি ধীরে ধীরে স্থানীয় প্রজাতির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে একটি সিলের দেহে। উপকূলীয় শহর বিচপোর্টে প্রাণীটিকে পাওয়া যায়, যা রাজ্যের রাজধানী অ্যাডিলেড থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার (১৯০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজ্যের জলসীমায় আনুমানিক ১ লাখ সিলের যে জনসংখ্যা রয়েছে, প্রাণীটি তারই একটি। সিলটিকে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছাড়াই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ফেডারেল কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, “এর মৃত্যু অন্য কোনো অসুস্থ বা মৃত সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক পরিবেশে এইচ৫ বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার পর উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব নয়।”
অস্ট্রেলিয়াই ছিল বিশ্বের সর্বশেষ মহাদেশ যেখানে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল হিয়ার্ড আইল্যান্ডে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই দ্বীপে ভাইরাসটির কারণে ১৩ হাজারের বেশি সিলশাবক মারা গেছে।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা স্কাই ফ্রুয়ান বলেন, সিলের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ উপকূলের পাথুরে এলাকায় তারা বন্য পাখিদের খুব কাছাকাছি বসবাস করে।
টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ফ্রুয়ান বলেন, “তাদের পরিবেশে যে ভাইরাসের মাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।”
ফেডারেল সরকার জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার হাঁস-মুরগি বা কৃষি খাতে এখনো এইচ৫এন১ শনাক্ত হয়নি। তবে শুক্রবার পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ২৯৭টি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।