Advertisement Banner

বাবার দাফনে গিয়ে লাশ হলো শিশু তালিন, রক্তাক্ত ভাই

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বাবার দাফনে গিয়ে লাশ হলো শিশু তালিন, রক্তাক্ত ভাই
ছবি: রয়টার্স

রক্তে ভেজা ব্যান্ডেজে মোড়ানো সাত বছরের ছোট্ট আলিন সাঈদ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে তাদের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলার সময় সে সেখানে ছিল—তার বাবাকে দাফন করতে গিয়েছিল। পুরো অঞ্চলে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিল তার পরিবার, কিন্তু নতুন করে হামলায় প্রাণ হারিয়েছে আলিনের শিশু বোনসহ পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য।

সাঈদ পরিবারের বাড়িতে এই হামলাটি হয় বুধবার (৮ এপ্রিল), যা ছিল যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন। লেবাননের বহু মানুষ আশা করেছিলেন এই যুদ্ধবিরতি তাদের দেশের ওপরও কার্যকর হবে। কিন্তু উল্টো লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ। আর সাঈদ পরিবারকে এখন আরও চারজন স্বজনকে কবর দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

সাঈদের ৬৪ বছর বয়সী দাদা নাসের সাঈদ বলেন, “তারা বলেছিল যুদ্ধবিরতি চলছে। অন্য সবার মতো আমরাও গ্রামে গিয়েছিলাম। কবরস্থানে শহীদদের জন্য দোয়া পড়ে যখন বাড়ির দিকে আসছি... হঠাৎ মনে হলো একটা বিশাল ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আমাদের ওপর আছড়ে পড়ল।এটি একটি যুদ্ধাপরাধ। মানবাধিকার কোথায়? ইসরায়েলে যদি কোনো একটি শিশুও আহত হয়, তবে পুরো বিশ্ব হইচই শুরু করে। আমরা কি মানুষ নই? আমরা কি তাদের মতো নই?”

গত ১২ এপ্রিল দক্ষিণ লেবাননের বন্দরনগরী টায়ারে সবুজ কাপড়ে মোড়ানো নিথর দেহগুলো নিতে আসেন স্বজনরা। তাদের মধ্যে একটি কাপড়ের প্যাকেট ছিল অন্যগুলোর তুলনায় অনেক ছোট—সেটি ছিল নাসেরের নাতনি এবং সাঈদের বোন তালিনের মরদেহ।

তালিনের বয়স দুই বছরও পূর্ণ হয়নি। মাথা ও ডান হাতে ব্যান্ডেজ আর মুখে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে নাসের সাঈদ তখন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাশে থাকা নারীদের আকাশফাঁটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছিল বাতাস।

লেবাননে সাম্প্রতিক এই যুদ্ধ শুরু হয় ২ মার্চ, যখন সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলি অবস্থানে হামলা চালায়। এরপর থেকে ইসরায়েল দেশটিতে বিমান ও স্থল অভিযান জোরদার করেছে। এখন পর্যন্ত এই অভিযানে লেবাননে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ১৬৫ জন শিশু ও অন্তত ২৫০ জন নারী।

লেবাননের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গত বুধবার ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি। এই হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা স্রিফা গ্রামে হামলার খবরটি খতিয়ে দেখছে।

শিশু তালিনের জন্ম হয়েছিল ২০২৪ সালে, হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে বিগত দফার তীব্র সংঘাতের সময়। সে যুদ্ধের মধ্যেই জন্মেছিল এবং যুদ্ধের মধ্যেই মারা গেল।

ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হোক। তবে রোববার কোনো বড় ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল চাইছে লেবাননের কর্মকর্তাদের সাথে আলাদাভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে।

এদিকে, লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গত ১১ এপ্রিল দেশটিতে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন।

টায়ারের জাবাল আমেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ডা. আব্বাস আত্তিয়েহ জানান, গত সপ্তাহের বোমাবর্ষণ ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ। তার হাসপাতালে আসা রোগীদের একটি বড় অংশই শিশু। তিনি রয়টার্সকে জানান, তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো একসঙ্গে অনেক আহতের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা। মাত্র ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রচুর আহত মানুষ হাসপাতালে এসেছে।

সম্পর্কিত