প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের (ওপিজিএ) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নাম ও পদবি উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘‘ব্যারিস্টার জায়মা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিদ্যমান নিয়মাবলি ও নিয়োগপ্রক্রিয়া কঠোরভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।’’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে রয়েছেন মোট ৪০ জন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে ‘লিগ্যাল অফিসার-বাংলাদেশ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে কাজ করবেন।
ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যমতে, জাইমা রহমান একজন ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ। তার যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টারি করার যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘দি অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল’ থেকে সনদ পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে একজন তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করছেন।
যুক্তরাজ্যে তার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইন। এছাড়া তিনি স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ ও জনসংযোগের পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইনের ওপর ‘প্রো বোনো’ (বিনামূল্যে আইনি সেবা) কাজ করেছেন। বাংলাদেশে তিনি ‘সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এর সঙ্গে কাজ করেছেন, যেখানে তার কাজের ক্ষেত্র ছিল সাংবিধানিক, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) এবং কর ব্যবস্থা।
তিনি বাংলাদেশের একটি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সুরভী’-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সুবিধাবঞ্চিত ও ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করে। তার আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, বিচার পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে দায়িত্ব পাওয়া অন্য বাংলাদেশিরা হলেন- কূটনীতিক আব্দুল আলিম, মোয়াজ্জেম হোসেন, মফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ ও মো. রফিকুল আলম মোল্লা।
এদের মধ্যে ডেপুটি শেফ দ্য কেবিনেটের দায়িত্বে রয়েছেন মো. আবদুল আলিম। অ্যাডভাইজার অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে রয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন।