পদ্মা ব্যাংক বন্ধ বা অবসায়নের বিষয়ে সম্প্রতি কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেও সেখান থেকে পদ্মা ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন তথ্য প্রকাশ পুরোপুরি ভুল বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘বন্ধ হচ্ছে পদ্মা ব্যাংক’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, পদ্মা ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান চরচাকে বলেন, “আজ আমাকে কোট করে যে রিপোর্টটা পাবলিশ হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ ভুল রিপোর্ট। আমি তেমন কথা বলিনি।”
তিনি বলেন, “আসলে ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন কোনো আলোচনা বাংলাদেশ ব্যাংকে হয়নি। কোনো ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হলে আমরা সেটা নিয়ে আলোচনা করি। শুধু পদ্মা ব্যাংক কেন, আরও ব্যাংক নিয়ে এমন আলোচনা হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট করেছে পদ্মা ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা পুরোপুরি ভুল তথ্য। এটা করা ঠিক হয়নি।”
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক পদ্মা ব্যাংক বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানালেও ব্যাংকটির আর্থিক দুর্বলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।
আগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত জুন পর্যন্ত পদ্মা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। আগের বছরের জুনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হলে সেটি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এমন আলোচনা থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমনটা বলা ঠিক নয়।
২০১৩ সালে ফারমার্স ব্যাংক নামে কার্যক্রম শুরু করা ব্যাংকটি কয়েক বছরের মধ্যেই অনিয়ম ও আর্থিক সংকটে পড়ে। পরবর্তীতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, নাম পরিবর্তন এবং মূলধন জোগানের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি ফারমার্স ব্যাংকের নাম পরিবর্তন করে পদ্মা ব্যাংক করা হয়।