আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ এবং এই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হয়।
জোরপূর্বক গুম বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের অনুমোদন, সমর্থন কিংবা সম্মতির সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণ করা হয় এবং পরে তার অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে তথ্য অস্বীকার করা হয় বা গোপন রাখা হয়। এতে ওই ব্যক্তি আইনের সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত হন।
জাতিসংঘের ভাষ্য, জোরপূর্বক গুম শুধু একজন ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এর প্রভাব পড়ে তার পরিবার, স্বজন এবং পুরো সমাজের ওপর। একজন মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। একই সঙ্গে সমাজে তৈরি হয় ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ।
জোরপূর্বক গুম বিশ্বের কোনো একটি অঞ্চলের একক সমস্যা নয়। অতীতে সামরিক স্বৈরশাসনের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মতো বিভিন্ন পরিস্থিতিতেও জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটতে পারে।
২০২৬ সালে জোরপূর্বক গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন গ্রহণের ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচার ও প্রতিকারের অধিকারকে সামনে রেখে এবারের ২০তম বার্ষিকীর স্লোগান, ‘ভুক্তভোগীদের অগ্রাধিকার, এখনই পদক্ষেপ’।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্তত ৮৫টি দেশে সংঘাত বা দমন-পীড়নের সময় লাখো মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাই জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশও দীর্ঘ সময় ধরে গুমের অভিযোগ ও এর ভয়াবহ মানবিক পরিণতির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী কনভেনশনে যোগ দেয়। এটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার।