ভারতরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সাম্প্রতিক বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটার ভারতপ্রধান অরুণ শ্রীনিবাসসহ কয়েকটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাগুলো করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, ইনস্টাগ্রামে তারা প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বিকৃত ও ডিজিটালভাবে পরিবর্তিত ছবি এবং ভিডিও দেখতে পান। তাদের দাবি, ওই সব কনটেন্টে মোদিকে ‘অশ্লীল, অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকরভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব পোস্টের মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিকৃত কনটেন্টে দেখানো অন্যান্য ব্যক্তিদের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষা, বিদ্রুপ ও অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, এসব কনটেন্ট ডিজিটালভাবে পরিবর্তিত অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে মনে হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, এ ধরনের কনটেন্ট জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে, ভুল তথ্য ছড়াতে, ঘৃণা বা জনঅস্থিরতা উসকে দিতে, জনশালীনতা ক্ষুণ্ন করতে, জনপরিচিত ব্যক্তিদের মানহানি বা মর্যাদাহানি করতে, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা উসকে দিতে পারে।
অভিযোগগুলো দায়ের করেছেন ২৯ বছর বয়সী ব্যবসায়ী এস অরবিন্দ রেড্ডি এবং তেলেঙ্গানা বিজেপির কর্মী টি সাইকিরণ গৌড়।
চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও সাময়িকভাবে ফেসবুকে ব্লক হওয়ায় সরকারের সমালোচনার মুখে পড়ে মেটা।
পরে মেটা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর পোস্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পোস্ট পর্যালোচনার দায়িত্ব শুধু মেটার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পালন করবেন এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত অন্তত দুইজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে।
কয়েক দিন আগে দিল্লি পুলিশও একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্য সম্বলিত পোস্ট এবং ভিডিও সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। যেগুলো যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ এবং ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে সহিংসতার সময় আপলোড করা হয়। মোদিকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর পোস্ট করার দায়ে কয়েকটি নিউজ পোর্টালসহ বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টকে নোটিশও জারি করেছে দিল্লি পুলিশ।