ads

সায়েন্স জার্নালের প্রতিবেদন

হামের টিকা: ইউনিসেফ সতর্ক করলেও কর্ণপাত করেনি অন্তর্বর্তী সরকার

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
হামের টিকা: ইউনিসেফ সতর্ক করলেও কর্ণপাত করেনি অন্তর্বর্তী সরকার
বাবার কোলে হামে আক্রান্ত শিশু। ছবি: চরচা

শিশুদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সিদ্ধান্তের পরই বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে দাবি করছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল সায়েন্স। গতকাল বৃহস্পতিবার জার্নালটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকার ব্যাপারে উন্মুক্ত দরপত্রের সিদ্ধান্ত নিলে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে–এমন সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও তাদের পরামর্শ আমলে নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে ৩২ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হামের সংক্রমণ এবং ২৫০ জনেরও বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার অধিকাংশই শিশু। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে হাম-রুবেলার টিকার জন্য ইউনিসেফের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যার অর্থায়ন মূলত গ্যাভি এবং সরকারি অনুদানের মাধ্যমে সম্পন্ন হতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাধারণত শিশুদের ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয় এবং ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য প্রতি চার বছর অন্তর দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করে। পরবর্তীতে ইউনিসেফ এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিল।

এ ব্যাপারে সায়েন্স জার্নালের ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের মন্তব্যও যুক্ত করা হয়। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল।”

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, তিনি বারবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে তিনি সতর্ক করেছিলেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নূরজাহান বেগম সায়েন্স জার্নালের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

সায়েন্স বলছে, মূলত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং টিকা সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে মজুত শেষ হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করে। ২০২৪ সালের একটি এমআর টিকাদান কর্মসূচি, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এক বছর পিছিয়ে গিয়েছিল, যা পরে বাতিল করা হয়।

চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৫৯ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে, যা পরবর্তীতে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয় উল্লেখ করে সায়েন্স জার্নাল বলছে, দ্রুত তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতে পৌঁছেছে, যার ফলে ২১ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

গত ২৩ এপ্রিল এক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে জানিয়েছে, এই রোগ মিয়ানমার এবং ভারতে ছড়িয়ে পড়ার ‘যথেষ্ট ঝুঁকি’ রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই পরিস্থিতিকে ‘হাম নির্মূলে বাংলাদেশের পূর্ববর্তী অগ্রগতি থেকে বিচ্যুতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সম্পর্কিত