খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান পদে ডা. মো. জহিরুল হককে দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত সাধারণ মানুষ ও ডেঙ্গু রোগীরা।
আজ শনিবার দুপুরে খুমেক হাসপাতালের হলরুমে জরুরি বৈঠক শেষে এ কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। চিকিৎসকদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরোধী অবস্থান নেওয়া এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিব) কেন্দ্রীয় নেতা ও আজীবন সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত একজনকে মেডিসিন প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত এই নিয়োগের আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আমানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়, বর্তমান বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ বি এম সাইফুল আলম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাবেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) ডা. মো. জহিরুল হককে নতুন বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মো. মিরাজ হোসাইন অভিযোগ করেন, ডা. জহিরুল হক ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ এবং জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি মাত্র ২০২২ সালে এফসিপিএস সম্পন্ন করার পর তাকে তড়িঘড়ি করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক শীর্ষ পদে বসানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা।
আজ দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির ফলে মেডিসিন বিভাগের ৫, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডসহ সার্জারি বিভাগের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ে। নির্ধারিত চেয়ার-টেবিল ফাঁকা থাকায় বিপাকে পড়েন ভর্তি থাকা রোগীরা, বিশেষ করে জরুরি সেবাপ্রার্থী ডেঙ্গু রোগীদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি মূল চিকিৎসকরা সেবাদান চালু রাখার চেষ্টা করছেন।
হাসপাতালে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে স্বাস্থ্যসেবা খাত বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী রোগীরা। এ সময় ডেঙ্গু ইউনিটে ভর্তি রোগীর স্বজন রকিবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পেতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে রোগীর চাপ থাকায় কর্মবিরতি দীর্ঘ হলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।” মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আসলাম বলেন, ‘‘চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে আমাদের ভোগান্তি শুরু হয়েছে। এ অবস্থা চললে সাধারণ রোগীরা চরম সংকটে পড়বে।” হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষ ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. জহিরুল হক দাবি করেন, ‘‘আমি ডানপন্থী লোক এবং স্বাচিবের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে কখনো যুক্ত ছিলাম না। উক্ত পদের জন্য আমার এক প্রতিদ্বন্দ্বী চিকিৎসক নিজের স্বার্থে জুনিয়রদের উসকে দিয়ে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।’’