তৃতীয় দিনের শেষেই এটা স্পষ্ট ছিল যে, উইকেটে বোলারদের জন্য আর কিছু নেই। ব্যাটসম্যানরা যদি সেট হয়ে যেতে পারেন, অনায়াসেই অস্ট্রেলিয়া বড় লিড নিতে পারবে। চতুর্থ দিন সকালে অবশ্য সেই পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে বাংলাদেশের জয়ের খুব কাছে নিয়ে গেছেন তিনিই।
আগের দিন স্টিভ স্মিথকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফিরে আসার রাস্তা অনেকটাই আটকে দিয়েছিলেন মিরাজ। উইকেটে কোনো টার্ন নেই, স্পিনাররাও পাচ্ছেন না বাড়তি সহায়তা। সেই কারণেই কিনা, সকালের সেশনে মিরাজের ওপরই ভরসা রাখেন নাজমুল হোসেন, আর তিনি তার প্রতিদান দেন একে একে চার উইকেট নিয়ে। আর সবগুলোই তার নিখুঁত পরিকল্পনা, স্কিল এবং মাথা খাঁটিয়ে বোলিংয়ের স্বীকৃতি।
প্রথম শিকার এলেক্স কেয়ারি। তিনি বিপজ্জনক হওয়ার আগেই তাকে ৩০ রানে থামান মিরাজ। কেয়ারি ফ্রন্টফুটে খেলছিলেন সাবলীলভাবে, তাই তাকে সেট-আপ করেন ব্যাকফুটে গিয়ে খেলার জন্য। তাতে কাজও হয়। সোজা ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ দেন কিপার লিটন দাসের হাতে।
কেয়ারির পর অস্ট্রেলিয়ার শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ছিলেন বিউ ওয়েবস্টার। ব্যাট হাতে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভালোই করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটাও মিরাজ আদায় করেন দক্ষতার সঙ্গেই।
গতি একটু বাড়িয়ে বল এমন জায়গায় ফেলেন মিরাজ, যেখান থেকে বিশাল টার্ন পাওয়া খুব সম্ভব। সেটা ভেবেই ওয়েবস্টার ব্যাকফুটে গিয়ে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বলটি তাকে ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানে স্ট্যাম্পে।
প্যাট কামিন্সের উইকেটেও ছিল মিরাজের স্কিলের প্রদর্শনী। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক মেজাজে ব্যাট করছিলেন। শট খেলার চেষ্টাই ছিল না তার। মিরাজ তাই যেটা করেন, তা হল কামিন্সকে বল খেলতে বাধ্য করা। অফ স্ট্যাম্পের ঠিক বাইরে এমন লাইনে বলটা করেন, যা ছেড়ে দিলে বোল্ড। তাই কামিন্সকে বাধ্য হয়ে খেলতেই হয়েছে আর তাতে বল চলে যায় শর্ট লেগে থাকা ফিল্ডারের হাতে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার রান ৯ উইকেটে ২৮২, আর লিড ৫৪ রানের। মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ফিফটি করা মিরাজ বল হাতে এমন সময়ে দলের ত্রাতা হয়ে হাজির হয়েছেন, যখন উইকেটে ছিল না কিছুই। বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে গেলে তাই বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স।