২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। হেরেছিল দুটিতেই। এরপর অস্ট্রেলিয়াতে সফর করলেও টেস্ট খেলা খেলা হয়নি। দীর্ঘ ২৩ বছর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রথম ম্যাচেই জিতে গেছে বাংলাদেশ, আর গড়েছে ইতিহাসও। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতার কীর্তি গড়েছে নাজমুল-মিরাজরা। তৃতীয় ম্যাচে এসেই। ২০০৩ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ডারউইন ও কেয়ার্নসে দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটিতেই হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে।
এশিয়ার পাঁচ টেস্ট খেলা দলের মধ্যে আফগানিস্তান এখনো অস্ট্রেলিয়াতে খেলেনি। বাকি তিন দলের মধ্যে ভারতের অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে টেস্ট জেতার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১২ ম্যাচ পর্যন্ত। আর পাকিস্তান নিজেদের অষ্টম ম্যাচে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জিতেছিল পাকিস্তান। সেটা ১৯৭৬–৭৭ সালে।
শ্রীলঙ্কার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। ১৯৮৯ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট খেলেছিল শ্রীলঙ্কা। পেরিয়ে গেছে ৩৭ বছর। অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে সাতটি সিরিজ আর ১৫ টেস্ট খেলে এখনো জয়ের দেখা পায়নি লঙ্কানরা। এই তিন দলের পরিসংখ্যানের কারণেই ডারউইনে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয় অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারত-পাকিস্তানের মতো দুটি দেশ তাদের ইতিহাসের এত এত তারকা নিয়েও যা করতে পারেনি, মাত্র তিন টেস্টেই সেটা করে দেখিয়েছে বাংলাদেশ। আর সেটাও একরকম হেসেখেলেই। চার দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ওপর শতভাগ আধিপত্য দেখিয়েই বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা।
সময়ের হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পেতে সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছে তিন দেশের—দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের। দক্ষিণ আফ্রিকার লেগেছেন ৫২ বছর, নিউজিল্যান্ডের ৪২ বছর আর ভারতের ৩০ বছর। বাংলাদেশের ২৩ বছর লাগলেও এই ২৩ বছরে অস্ট্রেলিয়া যে টেস্ট খেলতেই ডাকেনি বাংলাদেশকে। সে হিসেবে তৃতীয় টেস্টে গিয়ে জয় তুলে নিয়ে পাকিস আধিপত্য দেখিয়েই বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা।