রাজধানীর ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠকের সময় উগ্রবাদী কার্যক্রমের সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাম্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমোদ (২৬) এবং জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
এর আগে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বলেন, আসামিরা দেশে অস্থিরতা তৈরি এবং জিহাদের নামে লোক সংগ্রহের পরিকল্পনা করছিলেন। নেপথ্যের সহযোগীদের শনাক্ত করতে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মাসুদ-উর- রহমান রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, আসামিরা মিটআপ নামক একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগের মাধ্যমে নাশকতার উদ্দেশ্যে তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় গত শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল, সিমকার্ড ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চ্যাট হিস্ট্রি যাচাই করা প্রয়োজন। এছাড়া উগ্রবাদী কার্যক্রমের অর্থের উৎস এবং নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতেই এ রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।